গত দুই দিনে ঢাকার তুরাগ নদী থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাভার, আশুলিয়া এবং দারুস সালাম থানা এলাকায় পৃথক তিনটি স্থানে এই মরদেহগুলো পাওয়া যায়। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন দাবি উঠতে শুরু করে, যেখানে নিহতদের রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠনের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে জানানো হয়েছে যে, এই তথ্যগুলোর কোনো সত্যতা নেই এবং এগুলো সম্পূর্ণ গুজব।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রনি মোল্লা, মো. সুমন এবং আরিফ। রনি মোল্লা মনিপুর মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন এবং উত্তরা এলাকায় একটি হোটেলে কাজ করতেন। তার বাবা জানিয়েছেন যে, গত ২৪ জুন তুরাগ নদীতে গোসল করতে নেমে তিনি নিখোঁজ হন এবং পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। তার বাবা আরও স্পষ্ট করেছেন যে, রনি কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন না। অন্যদিকে, আশুলিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া সুমনের পরিবার জানিয়েছে যে, বন্ধুদের সাথে ট্রলারে ঘোরার সময় সে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিল। সুমন সাঁতার জানতেন না বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তৃতীয় মরদেহটি উদ্ধার হয়েছে রবিবার সকালে গাবতলী এলাকার তুরাগ নদী থেকে। আরিফ নামের ওই যুবকও বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে অনীহা থাকলেও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় আলাদা তিনটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সাভার মডেল থানা, আশুলিয়া থানা এবং আমিনবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা যৌথভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, তারা প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে তদন্ত করছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রাজনৈতিক পরিচয়ের দাবির কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি বলে তারা পুনরায় সাধারণ মানুষকে গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন