নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বসতবাড়ির অতি নিকটে বিষধর রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়ার উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। গত শনিবার (৪ জুলাই) উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের কোরালিয়া পশ্চিমের চর আতাউর এলাকায় একটি বসতঘরের পাশে পাতা জালে সাপটি আটকা পড়লে স্থানীয়রা সেটিকে পিটিয়ে হত্যা করেন। বসতঘরের এত কাছাকাছি এমন ভয়ংকর প্রজাতির সাপের উপস্থিতি এলাকাবাসীর রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, ভূমিহীনদের বসতবাড়ির পাশে পাতা একটি গিঁড়ার জালে সাপটি আটকা পড়েছিল। এক নারী জালের ভেতর থেকে ফোঁসফোঁস শব্দ শুনতে পেয়ে ভয় পেয়ে যান এবং পরে লোকজনের সহায়তায় সাপটি শনাক্ত করা হয়। বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল নিশ্চিত করেছেন যে, নিহত সাপটি রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া, যা অত্যন্ত বিষধর ও বিরল প্রজাতির। হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ইতিপূর্বেও রাসেলস ভাইপার শনাক্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে লোকালয়ে সাপের বিচরণ বেড়ে যায়, যা বর্তমানে জনশঙ্কার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের বিষের প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রাখা হয়েছে।
সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের মতো কুসংস্কারাচ্ছন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি ত্যাগ করে দ্রুত রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন সিভিল সার্জন। কামড়ের স্থানে কোনো ধরনের তেল বা মলম ব্যবহার না করে এবং ক্ষতস্থান মালিশ না করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসার আওতায় এলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। সবশেষে, বাড়তি সতর্কতা হিসেবে রাতে চলাচলের সময় টর্চলাইট ব্যবহার করা এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন