সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই ভারী বর্ষণের কবলে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানী ঢাকার বাসিন্দারা। রোববার সকাল থেকেই অঝোর ধারায় বৃষ্টির ফলে রাজধানীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও অলিগলি তলিয়ে গেছে হাঁটুপানিতে। ইসিবি চত্বর, মাটিকাটা, রামপুরা ও বনশ্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পানি জমে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে বৃষ্টির পানি বাসাবাড়ির নিচতলায় ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা পড়েছেন চরম বিপাকে।
সকাল থেকেই কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির চিত্র ছিল চোখে পড়ার মতো। হাতে ছাতা বা গায়ে রেইনকোট থাকলেও বৃষ্টির তীব্রতায় অনেকের পোশাক নষ্ট হয়ে গেছে। গণপরিবহনের ব্যাপক সংকট এবং দীর্ঘ যানজটের কারণে অফিসগামী যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খেয়েছেন। এর ওপর রিকশা ও সিএনজি চালকদের বাড়তি ভাড়ার দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। অনেককে নিরুপায় হয়ে রাস্তার পাশের দোকান বা বিভিন্ন ভবনের নিচে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এমতাবস্থায় মিরপুর, বাড্ডা ও মহাখালীর মতো এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। একদিকে কর্মস্থলে পৌঁছানোর তাড়া, অন্যদিকে জলমগ্ন রাস্তা এই দুইয়ের চাপে রাজধানীর মানুষের দৈনন্দিন রুটিন পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে গেছে। নগরবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টানা বৃষ্টির কারণে প্রতি সপ্তাহের শুরুতে এমন জলাবদ্ধতা ও যাতায়াত বিড়ম্বনা থেকে বাঁচতে আমাদের ব্যক্তিগত প্রস্তুতি বা নগর কর্তৃপক্ষের করণীয় কী হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
মন্তব্য করুন