সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশি তরুণ হাফেজ নূর উদ্দিন জাকারিয়া। বিশ্বের ১৩৩টি দেশের শত শত প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তিনি চতুর্থ শাখায় প্রথম স্থান অর্জন করে ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের চাঁদকাঠী গ্রামের এই কৃতী সন্তানের এমন অভাবনীয় সাফল্যে তার নিজ গ্রামসহ পুরো জেলায় আনন্দের বন্যা বইছে।
হাফেজ নূর উদ্দিন জাকারিয়া চাঁদকাঠী গ্রামের মাওলানা নুরুল আমিন ও ইয়ানুর বেগম দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। মাত্র ছয় বছর বয়সে মামা হাফেজ ক্বারী মোহাম্মদ রহমত উল্লাহর সান্নিধ্যে ঢাকার একটি মাদ্রাসায় তার কুরআন হিফজের হাতেখড়ি। মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি পবিত্র কুরআনের হাফেজ হন। বর্তমানে তিনি ডেমরার আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় উচ্চতর শিক্ষার জন্য অধ্যয়নরত আছেন। সেখান থেকেই তিনি এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছান।
জাকারিয়ার এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে বাউফলসহ দেশজুড়ে বইছে খুশির জোয়ার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জানান, জাকারিয়ার এই অর্জন শুধু তার পরিবারের নয়, বরং পুরো দেশের জন্য এক অনন্য গৌরব। তাকে নিয়ে গর্ববোধ করছে গোটা বাউফলবাসী। তরুণ সমাজসেবক হুজাইফা ইসলাম মনে করেন, জাকারিয়া এখন তরুণ প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা অন্যদের পবিত্র কুরআনের পথে ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ করবে।
এই বিশ্বজয়ী হাফেজকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এক বিবৃতিতে তিনি জাকারিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং মক্কা নগরীতে তার এই কৃতিত্বকে বাউফলের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করায় পুরো জাতি আজ জাকারিয়াকে নিয়ে গর্ব করছে।
মন্তব্য করুন