জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো বিপন্ন প্রজাতির ‘নর্দার্ন প্লেইনস ল্যাঙ্গুর’ বা উত্তুরে হনুমানের দেখা মিলেছে। দেশীয়ভাবে ‘যশোরের হনুমান’ নামে পরিচিত এই বিরল প্রাণীটিকে ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার (ডব্লিউআরসি) এলাকা থেকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জীববৈচিত্র্যে যুক্ত হলো এক নতুন ও বিরল সংযোজন। ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছে চরম বিপন্ন প্রজাতির ‘নর্দার্ন প্লেইনস ল্যাঙ্গুর’ (Northern Plains Langur), যা বাংলাদেশে পরিচিত ‘উত্তুরে হনুমান’ বা ‘যশোরের হনুমান’ নামে।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার (ডব্লিউআরসি) সংলগ্ন মনপুরা এলাকায় প্রাণিটিকে দেখতে পান কয়েক জন শিক্ষার্থী।
ঘটনার বিবরণ: রসায়ন বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন সুমন তাঁর বন্ধুদের নিয়ে মনপুরা এলাকার দিকে যাওয়ার সময় দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে গাছপালায় প্রাণীটিকে দেখতে পান এবং এর ভিডিও ধারণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বানরের দেখা নিয়মিত মিললেও হনুমান দেখা যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও উৎপত্তির ধারণা: জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগে কখনো হনুমান দেখার রেকর্ড নেই। তিনি জানান, বাংলাদেশে মূলত তিন প্রজাতির হনুমান রয়েছে, যার মধ্যে এটি অন্যতম। এরা মূলত ‘আরবান হনুমান’ বা লোকালয়ে বসবাসকারী প্রাণী। সচরাচর গভীর বনে না থেকে লোকালয়ের আশেপাশে গাছপালার ফল ও ফসল খেয়ে এরা জীবনধারণ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণীটির আগমন প্রসঙ্গে অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান বলেন, “এ প্রজাতির মূল আবাসস্থল বৃহত্তর যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলায়। খাবার বা ফলমূল বহনকারী ট্রাকে চড়ে অনেক সময় এরা অসাবধানতাবশত অনেক দূর-দূরান্তে চলে যায়। এই হনুমানটিও হয়তো কোনো ফলবাহী ট্রাকে করে জাবি ক্যাম্পাসে চলে এসেছে।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাগেরহাটের মোংলাতেও একইভাবে এই প্রজাতির একটি হনুমানের দেখা মিলেছিল।
প্রজাতি পরিচয় ও বিপন্ন অবস্থা: বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তুরে হনুমানের বৈজ্ঞানিক নাম Semnopithecus entellus। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (IUCN) লাল তালিকায় এদের ‘চরম বিপন্ন’ (Endangered) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আবাসস্থল সংকোচন, খাদ্যের তীব্র সংকট ও মানুষের সঙ্গে দ্বন্দ্বে এদের অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে।
উদ্ধারের পদক্ষেপ: জাবি ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, বন্যপ্রাণী ও হনুমানটির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ডব্লিউআরসির একটি বিশেষ গবেষক দল উদ্ধার অভিযানে নেমেছে। ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট এলাকায় সন্ধান চালিয়ে প্রাণীটিকে নিরাপদে উদ্ধার করার চেষ্টা চালানো হবে।