মানিকগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার (তিন খুন) মামলায় ২৪ আসামির মধ্যে চার ভাইসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড ও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এই রায় ঘোষণা করেন।
মানিকগঞ্জে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার (তিন খুন) মামলায় দীর্ঘ ১০ বছর পর রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মামলার ২৪ আসামির মধ্যে চার ভাইসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া মামলার ৭ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৪ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়ার উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, জসিম এবং আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন আসামির প্রত্যেককেও ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে মজনু মিয়াকে ১ বছর, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ৬ মাস এবং সাহেরা খাতুন ও খাতুনি বেগমকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় উজ্জ্বল মিয়া, অলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আজিজ মোল্লা, টেন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহত আজিজ মোল্লার স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয় এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই রায় দেন।
আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান ও মেজবাউদ্দিন জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।