সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের বিশেষ আগ্রহে নওগাঁর মহাদেবপুরে ৩৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া স্টিল সাইলো প্রকল্প বাতিল করেছে পরিকল্পনা কমিশন। নৌপথ ও রেলপথের সংযোগ না থাকা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে মারাত্মক অসম্ভাব্যতা থাকায় সাইলোর বদলে সেখানে কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম (সিএসডি) নির্মাণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের আগ্রহে তাঁর নিজ জেলা নওগাঁর মহাদেবপুরে ৩৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া ‘আধুনিক স্টিল সাইলো’ নির্মাণ প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে বিএনপি সরকার। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা কমিশনের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় উল্লেখিত স্থানটিতে স্টিল সাইলোর পরিবর্তে কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম বা সিএসডি (CSD) নির্মাণের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নে ৪৮ হাজার টন ধারণক্ষমতার এই সাইলো নির্মাণের জন্য ১৫ একর আবাদি জমি অধিগ্রহণ এবং মাটি ভরাট করা হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রের মতে, প্রস্তাবিত সাইলো স্থান থেকে আত্রাই নদের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার এবং ছোট যমুনা নদীর দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। পরিকল্পনা কমিশনের সভায় উল্লেখ করা হয় যে, সাধারণত সাইলোতে নৌপথ বা রেলে বাল্কের (ঢেলে) মাধ্যমে মালামাল পরিবহন করা হয়ে থাকে। কিন্তু মহাদেবপুরের স্থানটিতে এই ধরনের নৌপথ বা রেলপথ না থাকায় সড়কপথে বস্তায় করে মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত বিপুল খরচ হতো।
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) জসীম উদ্দিন খান জানান, সাইলোতে বাল্কের মালামাল রাখার উপযোগী ব্যবস্থা ও সঠিক পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় প্রকল্পটি কোনোভাবেই কার্যকর ছিল না। বস্তায় চাল বা ধান পরিবহনে প্রতি কেজিতে সরকারের প্রায় ৬ টাকা অতিরিক্ত খরচ হতো, যা আর্থিক ও কৌশলগত উভয় দিক থেকেই অযৌক্তিক।
পরিকল্পনা কমিশনের সচিব কবির আহমাদ জানান, সভায় প্রকল্পটি অসমাপ্ত রেখেই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাইলোর পরিবর্তে খালি জায়গাটিতে ১ হাজার টন ধারণক্ষমতার ২৫টি আধুনিক গুদাম তৈরি করে মোট ২৫ হাজার টন খাদ্যশস্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
উল্লেখ্য, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ২০১৮ থেকে ২০২৪ মেয়াদে খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ২০২৩ সালে এই প্রকল্পটির অনুমোদন করিয়েছিলেন। তৎকালীন কর্মকর্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও মন্ত্রীর ব্যক্তিগত একক আগ্রহের কারণে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর ৩ অক্টোবর রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে সাধন চন্দ্র মজুমদার গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।