২৪২টি উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১৮ থেকে ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের সত্যতা অনুসন্ধানে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে তাদের কাজ শুরু করেছে। প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি এই ঘটনার পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং কোনো প্রভাবশালী মহলের হাত রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্থগিত এই বাছাই পরীক্ষা আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
তদন্ত প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং তদন্ত কমিটির সভাপতি মো. মাহফুজুল আলম খান জানান, কমিটি একাধিক স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রশ্ন ছাপানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছে। শনিবারের পরীক্ষার জন্য শুক্রবারে মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে রাতভর প্রশ্ন তৈরি ও ফটোকপির কাজ চলেছিল, যেখানে বেশ কয়েকজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের প্রবল ধারণা, অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ চক্রই অর্থনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে টার্গেট করা পরীক্ষার্থীদের হাতে আগেই প্রশ্ন তুলে দেয়। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়ার মতে, প্রশ্নফাঁস একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ, তাই কেবল বিভাগীয় প্রশাসনিক তদন্ত যথেষ্ট নয়; বরং পুলিশ বা দুদকের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত ও মামলা না হলে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালেই থেকে যাবে।
এদিকে প্রশ্নফাঁসের কারণে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় রাজধানী জুড়ে ব্যাপক ভোগান্তি ও ক্ষোভের মুখে পড়েন সুদূর থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া এই পরীক্ষাটি আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৩টায় নতুন করে অনুষ্ঠিত হবে এবং পরীক্ষার্থীদের খুদে বার্তার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। পরীক্ষার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে যুগ্মসচিব ডিএম আতিকুর রহমানকে সভাপতি করে নতুন একটি পাঁচ সদস্যের বিভাগীয় নিয়োগ কমিটি (ডিপিসি) গঠন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন