ভারতে বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের জের ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর আহ্বানে বিরোধী জোট ও আন্দোলনকারীদের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘিরে দিল্লির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১২ অক্টোবর) টানা তৃতীয় দিনের মতো পুরো শহরজুড়ে হাজার হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি ধাতব ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ফলে প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ার তথ্যে চরম রাজনৈতিক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদি সরকারকে নির্বাচনে রাজনৈতিক সুবিধা দিতেই সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) কোনো ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, কেবল ভুয়া ও মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে কংগ্রেস, সিজেপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলো।
সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে অন্তত ১৬ জন সাংবাদিক আটক হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা 'রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস'। এছাড়া পুলিশের হাতে বিরোধী সংসদ সদস্য ও সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনাকে 'গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার ওপর আঘাত' বলে অভিহিত করেছেন বিরোধী নেতারা। তবে সব বাধা পেরিয়ে রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়ে রাহুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যত পুলিশ ও ব্যারিকেডই বসানো হোক না কেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই কোনোভাবেই থামবে না।
মন্তব্য করুন