মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত করা এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি রোধের কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবির মতো বিশ্বখ্যাত টেক জায়ান্টসহ আটটি বড় প্রযুক্তি ও আউটসোর্সিং কোম্পানির গ্রিন কার্ড আবেদনের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে বিদেশি কর্মীনির্ভর শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী আবাসন প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে নেওয়া এটিই এযাবৎকালের অন্যতম বড় কোনো সিদ্ধান্ত। নতুন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে—মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), ইনফোসিস, উইপ্রো, কগনিজ্যান্ট, এইচসিএল টেকনোলজিস এবং ক্যাপজেমিনি। দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের সংখ্যা কমানো এবং তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ ও নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সীমিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি যে মাইক্রোসফটের মতো বড় কোনো কোম্পানিও এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর কোম্পানিটি ৬ হাজার ৩০০টি এইচ-১বি অস্থায়ী কর্মী ভিসা এবং প্রায় ৩ হাজার গ্রিন কার্ডের সুবিধা ভোগ করা সত্ত্বেও প্রায় ৬ হাজার আমেরিকান কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছে। মজার বিষয় হলো, ট্রাম্প যখন মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ প্রযুক্তিবিদকে আমেরিকার প্রতি অবদানের জন্য সম্মাননা জানাচ্ছিলেন, ঠিক তার কিছুক্ষণ আগেই এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়। সত্য নাদেলা ও ইলন মাস্কের মতো সফল ব্যক্তিত্বরাও অতীতে এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমেই মার্কিন মুল্লুকে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়র সুযোগ পেয়েছিলেন।
মার্কিন শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন বা স্থায়ী শ্রম সনদ প্রক্রিয়া (পিএলসিপি)-এর আওতায় কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি আবেদন করে থাকে মাইক্রোসফট। এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হয় যে, কোনো বিদেশি কর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হলে তা স্থানীয় আমেরিকান কর্মীদের মজুরি বা কর্মসংস্থানের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। শ্রম বিভাগের কর্মকর্তা কিথ সন্ডারলিং জানিয়েছেন, ২০০৯ সাল থেকে এই আটটি কোম্পানি প্রায় ৩০ লাখ বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করেছিল এবং এর বিপরীতে দুই লাখের বেশি এইচ-১বি ভিসা ও এক লাখের বেশি স্থায়ী শ্রম সনদ পেয়েছিল। প্রশাসন যতদিন প্রয়োজন মনে করবে, ততদিন এই স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর নীতির ফলে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ভারতের হাজার হাজার প্রযুক্তি পেশাজীবীর দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। তবে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন ন্যাসকম জানিয়েছে, ভারতীয় কোম্পানিগুলো বিগত বছরগুলোতে এইচ-১বি ভিসার ওপর তাদের নির্ভরতা যথেষ্ট কমিয়ে এনেছে এবং তাদের কর্মীরা তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যাতেই পিইআরএম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করে থাকে।
মন্তব্য করুন