আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি যেমন এক বেদনার্ত অনুভূতির জন্ম দিয়েছে, ঠিক তেমনই তার বিদায়ের দিনে রচিত হয়েছে এক অনন্য কাব্য। স্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে সেই ম্যাচে এক বিন্দুতে এসে মিলে গেছে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের তিন কাল—অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ। বর্তমানের অলিন্দ ছাড়িয়ে মেসি এখন ‘সোনালী অতীত’, আর সেই রূপকথার সমাপ্তি লগ্নেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন তরুণ মিডফিল্ডার নিকো পাজ।
ম্যাচের ৬১ মিনিটে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটিই যেন এই তিন কালের চমৎকার মেলবন্ধন ঘটিয়ে দেয়। এবারের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে পাউলো দিবালা, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো কিংবা থিয়াগো আলমাদাদের মতো তারকাদের ছাপিয়ে আলবিসেলেস্তেদের ভবিষ্যৎ ১০ নম্বর জার্সিটির দাবিদার হিসেবে নিজেকে শক্তভাবে প্রমাণ করেছেন নিকো পাজ। এই উইন্ডোতে তিন গোল করার পাশাপাশি আরও একটি গোলে সহায়তা করে এমি মার্টিনেজের মতো সতীর্থদের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন তিনি, যা তাকে নিয়ে ভক্তদের সব সংশ দূর করে দিয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকে বাকি সবাই যেখানে নিজেদের শেষ ম্যাচে কেবল মেসিকেই খুঁজে ফিরেছেন এবং বল তার পায়ে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, সেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন পাজ। বক্সের বাইরে ডান পাশে বল পেয়ে ঐতিহ্যগতভাবে সবাই যখন ভেবেছিল বলটি মেসির কাছে বাড়ানো হবে, ঠিক তখনই পাজ নিজে শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বেনিনের রক্ষণ ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করে তার নেওয়া বাঁকানো সেই দুর্দান্ত শটটি সরাসরি জড়িয়ে যায় জালে যা হুবহু মনে করিয়ে দেয় ২০১৪ বিশ্বকাপে ইরানের বিপক্ষে মেসির সেই বিখ্যাত গোলটির কথা।
‘অতীত’ হিসেবে মেসির ট্রেডমার্ক কায়দায় করা সেই গোলটি যেন আর্জেন্টিনার ‘ভবিষ্যৎ’ হাতের মুঠোয় তুলে দিলেন তরুণ নিকো পাজ। আর এই নান্দনিক গোলের পর মেসির বুক থেকেও যেন এক বিশাল পাথর সরে গিয়েছিল, তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বুঝতে পেরেছিলেন যে আকাশি-সাদা জার্সির গৌরবময় ভবিষ্যৎ এখন অত্যন্ত নিরাপদ ও সক্ষম হাতের মেধার ওপরই অর্পিত হতে চলেছে।
মন্তব্য করুন