কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের পেছনে প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামী তিন মাসের মধ্যেই দেশের মাটি থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সব ধরনের তৎপরতা সমূলে উৎখাত করা হবে। রাজধানীর এফডিসিতে ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলনই অধিক কার্যকর’ শীর্ষক আয়োজিত এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
বর্তমান সরকারের কোনো রকম হেলমেট বা হাতুড়ি বাহিনী তৈরির বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, দেশের তরুণ সমাজ অস্ত্র বা চাপাতি হাতে রাস্তায় ঘুরবে না, বরং তারা বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাবে, দক্ষ নাগরিক হয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। বিগত আমলের মতোই বর্তমানেও যারা সমাজে সন্ত্রাস ও মব সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, অপরাধ করে কেউ ছাড় পাবে না এবং সরকার নিজের ঘর থেকেই এই শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ তার বক্তব্যে বলেন, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা সব সময় ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক খোলস পালটে ফেলে, তাই এদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় থাকে না। কিশোর গ্যাং কালচার চিরতরে নির্মূল করতে হলে কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা নয়, বরং সর্বস্তরে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে হবে। প্রতিযোগিতা শেষে সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে বিজয়ী দল মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের হাতে ট্রফি ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন