কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামার আগে স্বাগতিক দলকে যথেষ্ট সম্মান দেখানোর কথা জানিয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ভারত। সিনিয়র পর্যায়ে এটাই দুই দলের প্রথম ম্যাচ।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, ভারতীয় দলের প্রতি তাদের পূর্ণ সম্মান রয়েছে। পানামার বিপক্ষে ভারতের ১-১ গোলের ড্রয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ব্রাজিল কোচের মতে, ম্যাচটি শুধু ফলের জন্য নয়, নিজেদের সামর্থ্য দেখানো এবং দলের নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৩৮তম স্থানে, আর ব্রাজিল রয়েছে পঞ্চম স্থানে। র্যাঙ্কিংয়ের এই ব্যবধানের পরও ভারতকে হালকাভাবে দেখছেন না আনচেলত্তি। ব্রাজিলের এই ম্যাচটি ভারতের মাটিতে তাদের প্রথম সিনিয়র আন্তর্জাতিক ম্যাচও।
ভারতের ফুটবল সংস্কৃতি নিয়েও কথা বলেন আনচেলত্তি। ক্রিকেট দেশটির সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও ফুটবলের প্রতিও ভারতীয়দের ভালোবাসা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কলকাতার ফুটবলপ্রেম ও ব্রাজিলের প্রতি দীর্ঘদিনের সমর্থনের বিষয়টিও উঠে আসে তার বক্তব্যে।
আনচেলত্তি জানান, ভারতে এসে খেলতে পেরে তারা আনন্দিত। সমর্থকদের সামনে নিজেদের ফুটবল তুলে ধরতে চান তিনি। ব্রাজিল কোচের মতে, ম্যাচটি খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের মান দেখানোর একটি সুযোগ।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে থাকছেন না বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাম্প্রতিক ম্যাচে উরুর পেছনের অংশে অস্বস্তি অনুভব করার পর পরীক্ষায় চোট ধরা পড়ে। পরে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং চিকিৎসার জন্য ক্লাবে ফিরে যাওয়ার কথা জানানো হয়।
তবে ব্রাজিলের স্কোয়াডে রয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মারকুইনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ব্রুনো গিমারায়েস ও এন্ড্রিকের মতো তারকারা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ দুই ম্যাচে ব্রাজিল একটি ড্র ও একটি জয় পেয়েছে। আনচেলত্তি এই ম্যাচগুলোসহ ভারতের বিপক্ষে লড়াইকেও দলকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দলকে আরও সংগঠিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
ব্রাজিল অধিনায়ক মারকুইনিওসও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে কথা বলেছেন। তার মতে, ব্রাজিলের বাইরে ভারত তাদের অন্যতম বড় সমর্থকভিত্তির দেশ। কলকাতায় দলের উষ্ণ অভ্যর্থনাকে তিনি খেলোয়াড়দের জন্য ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পর আনচেলত্তি ও ভারতের কোচ খালিদ জামিলের মধ্যে উষ্ণ মুহূর্তও দেখা যায়। দুজন একে অপরকে আলিঙ্গন করেন এবং আনচেলত্তি জামিলকে শুভকামনা জানান।
ভারতের কোচ খালিদ জামিল অবশ্য ম্যাচের চাপের কথা স্বীকার করেছেন। তবে সেই চাপ সামলে নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তার বক্তব্য, খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে ম্যাচে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।
মন্তব্য করুন