দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত ও রক্তক্ষয়ের অবসান ঘটিয়ে ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের চূড়ান্ত সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। কুর্দি অঞ্চলের এরবিলের একটি বিমানঘাঁটি থেকে শেষ দফায় মার্কিন সেনা প্রস্থানের মধ্য দিয়ে এক শতাব্দীর সবচেয়ে বড় এই সামরিক অধ্যায়ের ইতি ঘটল। বুধবার (১ অক্টোবর) বাগদাদ এবং শিয়া পবিত্র শহর নাজাফের রাজপথে সামরিক কুচকাওয়াজ ও গাড়িবহর নিয়ে আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষ। তবে দীর্ঘ যুদ্ধের পর মার্কিন বাহিনীর এই বিদায় সাধারণ মানুষের মনে আনন্দের পাশাপাশি একটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা শূন্যতা ও অস্থিরতার শঙ্কাও তৈরি করেছে।
তেহরান এবং তার মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনীকে তাড়ানোর এই ঘটনাকে নিজেদের বড় বিজয় হিসেবে উদযাপন করছে। বাগদাদের ৭০ বছর বয়সী বাসিন্দা আহমেদ সজীব একে পুনর্জন্মের সঙ্গে তুলনা করে আনন্দ প্রকাশ করলেও শক্তিশালী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সমর্পণ করার এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। জো বাইডেনের আমলে ২০২৪ সালে এই সেনা প্রত্যাহারের চুক্তি হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে তা বাস্তবায়িত হলো। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে আগ্রাসন চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, যার ফলে পরবর্তী সময়ে দেশটিতে নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। যদিও ২০১১ সালে একবার সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তবুও ইসলামিক স্টেট (আইএস) দেশটির এক তৃতীয়াংশ দখল করে নেওয়ার পর ২০১৪ সালে মার্কিন সেনারা পুনরায় ফিরে আসে। দুই দশকের এই যুদ্ধে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা এবং দুই লাখের বেশি ইরাকি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
পেন্টাগন জানিয়েছে, মার্কিন ও জোট বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ সমাপ্ত করেছে এবং ভবিষ্যতে ইরাকি অংশীদারদের লক্ষ্যভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখা হবে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষের মিত্র হিসেবে পরিচিত ইরাকের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী স্বাধীনভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী সালেহ আল-জায়দি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জোটের মিশন শেষ হওয়ার অর্থ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সমাপ্তি নয়, বরং এটি ইরাকের নিজস্ব নিরাপত্তার পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার একটি নতুন ধাপ। তা সত্ত্বেও জাসিম আল-বাহাদলিসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এই নিরাপত্তা শূন্যতা সুযোগ নিয়ে আইএস কিংবা ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
মন্তব্য করুন