দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ও প্রখর রোদে অতিষ্ঠ জনজীবনে স্বস্তি পেতে এবং শরীরের পানির ঘাটতি মেটাতে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার অলিগলি ও পাড়ামহল্লায় ডাবের চাহিদা ও বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তবে এই চাহিদার সুযোগ নিয়ে ডাবের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ছোট আকারের একটি কচি ডাব ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং বড় আকারের ডাব ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের মতে, আধা লিটার বা ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিলিটার পানির জন্য বিক্রেতারা অতিরিক্ত চড়া দাম নিচ্ছেন।
বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, মূলত চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চল থেকে ডাব সংগ্রহ করতে হয় এবং গত দুই সপ্তাহে পাইকারি বাজারে প্রতি হাজার ডাবে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ যোগ হওয়ায় তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সদরের হাজী মার্কেটের ডাব বিক্রেতা এরশাদ মিয়া জানান, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা এবং গরমের কারণে ডাবের চাহিদা অনেক বেড়েছে। জেলা সদরে ২০০ টাকা পর্যন্ত ডাব বিক্রি হলেও তারা তুলনামূলক কম দামে দিচ্ছেন এবং মৌসুম না থাকায় এখন দাম কিছুটা বেশি।
তবে বিক্রেতাদের এমন যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন সাধারণ ক্রেতারা। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর জন্য ডাব কিনতে আসা আমীর আলীসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তীব্র গরম ও মানুষের বাধ্যবাধকতার সুযোগ নিয়ে দোকানিরা অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন। অতিরিক্ত দামের কারণে অনেকে ডাব না কিনে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে ডাবের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন