দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অবস্থানের পর অবশেষে ইরাক থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৩ সালে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর মধ্য দিয়ে দেশটিতে যে সামরিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, দীর্ঘ ২৩ বছর পর তার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। ঐতিহাসিক এই সেনা প্রত্যাহার উপলক্ষে পুরো ইরাকজুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা এবং দেশটিতে চার দিনের বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রয়টার্স ও আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের ঠিক একদিন আগেই মঙ্গলবার ইরাক ছাড়েন সেখানে থাকা শেষ মার্কিন সেনারা। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের কোনো সেনা অবশিষ্ট নেই এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরাকি বাহিনী সম্পূর্ণ সক্ষম। জো বাইডেনের সাথে ২০২৪ সালের সমঝোতার ধারাবাহিকতায় গত বছরই বেশিরভাগ সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, আর কুর্দি এলাকার শেষ দলটির প্রস্থানের মাধ্যমে এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ২০০৭ সালে যেখানে ইরাকে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা অবস্থান করছিল, সেখান থেকে এই পুরোপুরি প্রত্যাহার বাগদাদের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। তিনি একে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হয়ে পূর্ণ জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এদিকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে উদযাপন করছে দেশটির ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। তবে এই শূন্যতা নিয়ে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন ফালুজার মতো অঞ্চলের বিভিন্ন আদিবাসী ও স্থানীয় নেতারা। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন উপস্থিতি হটে যাওয়ায় এটি প্রতিবেশী দেশ ইরানের জন্য বড় কৌশলগত সুবিধার দরজা খুলে দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে পারে।
মন্তব্য করুন