ফেনীর চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণার পাশাপাশি নিম্ন আদালতের বিচারকের ভূমিকা নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন হাইকোর্ট। মামলার বিচারিক কার্যক্রমে আইনি প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ না করে নির্বিচারে আসামিদের ফাঁসি দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিচারককে বিচারিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। একইসঙ্গে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, বিচারিক আদালত যেভাবে ঢালাওভাবে ফাঁসির রায় প্রদান করেছিল, তার ফলে প্রতিটি আসামির পরিবারের ওপর একটি মারাত্মক বিপর্যয় বা ধ্বংসাত্মক প্রভাব নেমে এসেছে। বিচারকাজে এই ধরনের অপরিপক্বতা ও আইনি ব্যত্যয় রোধে আদালত এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নুসরাত হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করার সময় এই পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার অনুসারীদের দ্বারা গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল সাহসী ছাত্রী নুসরাতকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ওই বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার ১৬ জন আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট দুই জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে চারজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ১০ জন আসামিকে খালাস দেওয়ার পাশাপাশি নিম্ন আদালতের বিচারককে অপসারণের এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করলেন।
মন্তব্য করুন