শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অতিশয় বৃদ্ধ হওয়ার কারণে বা এমন কোনো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণে রোজা রাখতে অক্ষম হলে যার থেকে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই তার জন্য প্রতিদিনের রোজার পরিবর্তে ফিদিয়া আদায় করা ওয়াজিব। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৮৪ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে একজন দরিদ্রকে অন্নদানের মাধ্যমে এই ফিদিয়া আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, যদি ভবিষ্যতে কখনো রোজা রাখার সক্ষমতা ফিরে আসে, তবে সেই রোজার কাজা আদায় করতে হবে; তখন পূর্বের দেওয়া ফিদিয়া নফল সদকা হিসেবে গণ্য হবে।
রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদের মতে, ফিদিয়ার পরিমাণ হলো প্রতি রোজার বিপরীতে একজন মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরে খাওয়ানো অথবা সমমূল্য অর্থ প্রদান করা। কারিগরিভাবে এর পরিমাণ হলো একটি 'সদকাতুল ফিতর'-এর সমান। এ বছর (১৪৪৭ হিজরি/২০২৬ সাল) ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক নির্ধারিত সদকাতুল ফিতরের হার অনুযায়ী, বাংলাদেশে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিদিয়া ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা। সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা আটা, কিসমিস, খেজুর বা পনিরের বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই ফিদিয়া আদায় করতে পারেন।
উল্লেখ্য যে, রোজা রাখার নূন্যতম শারীরিক সক্ষমতা থাকলে ফিদিয়া প্রদান করা জায়েজ নয়; সেক্ষেত্রে কাজা আদায় করাই মূল বিধান। ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, এই শিথিলতা কেবল তাদের জন্য যারা বার্ধক্য বা জটিল রোগের কারণে রোজা পালনে একেবারেই অক্ষম। রমজান মাসজুড়ে কেউ রোজা রাখতে না পারলে তিনি ৩০ জন মিসকিনকে এক দিন অথবা একজন মিসকিনকে ৩০ দিন দুই বেলা খাইয়ে দিলেই মাসব্যাপী রোজার ফিদিয়া আদায় হয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন