লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে স্বামীর নির্মম নির্যাতনে সামিয়া আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টানা নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লা স্ত্রীর মরদেহ মর্গে রেখেই হাসপাতাল থেকে সটকে পড়েন এবং বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রায় ১২ বছর আগে জোরপূর্বক বিয়ে করার পর থেকেই হাফিজ সামিয়ার ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন সন্তান থাকলেও হাফিজের আরও দুই স্ত্রী রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ নির্যাতনের শিকার হয়ে সামিয়া গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তার মৃত্যু হয়। নিহতের ছোট মেয়ের ভাষ্যমতে, তার বাবা প্রায়ই মাকে অমানবিক নির্যাতন করতেন, এমনকি একপর্যায়ে মায়ের আঙুল কেটে দেওয়া এবং গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দিতেন।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা এলাকায় একজন মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। সামিয়ার স্বজনদের দাবি, নির্যাতন করার পর থেকে হাফিজ লাপাত্তা রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পুলিশ নিহতের পরিবারের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে এবং অভিযুক্তকে খুঁজে বের করতে তৎপরতা চালাচ্ছে।
মন্তব্য করুন