লিওনেল মেসি কেবল একটি নাম নয়, ফুটবল ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ২০০৬ সালে এক তরুণ প্রতিভা হিসেবে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করা মেসি আজ প্রায় দুই দশক পর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ইতিহাসের অনন্য এক উচ্চতায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির উপস্থিতি যেন সেই পুরনো মহাকাব্যের এক অবিরাম চলতে থাকা নতুন অধ্যায়।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ মেসির রেকর্ড ও পারফরম্যান্স: এবারের বিশ্বকাপে মেসির বয়স প্রায় ৩৯ হলেও তার খেলার ধার বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং তিনি এখন খেলার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করছেন নিখুঁত দক্ষতায়। গ্রুপ জে’র ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করে তিনি জানান দিয়েছেন, ফুরিয়ে যাননি তিনি। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ আসরে অংশ নেওয়া এই ফুটবল জাদুকর গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করার পরেও যেভাবে তিনি ফিরে এসেছেন এবং জোড়া গোল করে দলকে জিতিয়েছেন, তা তার মানসিক শক্তির এক বড় নিদর্শন।
সময়ের সঙ্গে মেসির লড়াই: নতুন প্রজন্মের এমবাপ্পে বা হালান্ডদের ভিড়েও মেসি আজও আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, তিনি এখন কেবল প্রতিপক্ষের সঙ্গে নয়, লড়াই করছেন সময়ের সঙ্গে। আগের মতো মাঠজুড়ে দৌড়ানোর পরিবর্তে এখন তিনি খেলার ছন্দ ও জায়গা বেছে নেওয়াতে বেশি মনোযোগী। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পাঁচটি গোলের প্রতিটিতেই মেসির সরাসরি অবদান রয়েছে, যা তাকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে।
এক শেষ না হওয়া গল্প: মেসির ক্যারিয়ারে ২০১৪ সালের ট্রফি হাতছাড়ার কষ্ট বা দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা সবকিছুই তাকে আরও পরিণত করেছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয় ছিল তার জীবনের অপূর্ণ কবিতার পূর্ণতা। কিন্তু কিংবদন্তিরা থামেন না, তারা নিজেদের শেষ অধ্যায় নিজেরাই লেখেন। আজকের মেসি ইন্টার মিয়ামির জার্সি মাতিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে এসে আবারও প্রমাণ করছেন ফুটবল মাঠে তার শেষ হওয়ার সময় এখনো আসেনি। রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায় তিনি আজও অপরাজেয় এবং ফুটবল ভক্তদের কাছে একটি অনুপ্রেরণার নাম।
মন্তব্য করুন