ফুটবল মাঠে ইতিহাস কখনও পুরনো হয় না, বরং তা বারবার নতুন রূপে ফিরে আসে। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার লড়াইয়ের কথা উঠলেই ভেসে ওঠে ১৯৬৬ সালের ওয়েম্বলি থেকে ১৯৮৬ সালের অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ বা ১৯৯৮ সালের বেকহ্যামের সেই বিতর্কিত লাল কার্ডের স্মৃতি। বছরের পর বছর পেরিয়ে প্রজন্ম বদলালেও এই দুই দলের লড়াই মানেই মাঠে ইতিহাসের পদধ্বনি। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বুধবার রাতে আবারও সেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল মুখোমুখি হচ্ছে, যা কেবল একটি সেমিফাইনাল নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
এই সেমিফাইনাল ঘিরে লিওনেল মেসি যেন এক নতুন প্রতীকের নাম। ফুটবলের সম্ভাব্য সব শিরোপা জেতার পর তার বর্ণিল ক্যারিয়ারে এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে এক নতুন লড়াই। মেসির ফুটবল দর্শন ম্যারাডোনার অগ্নিকুণ্ড সদৃশ উত্তাপের চেয়ে অনেকটা নদীর মতো শান্ত, কিন্তু তার প্রতিটি ড্রিবল ও ফ্রি-কিক পুরো স্টেডিয়ামকে নিস্তব্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এটি হতে পারে মেসির শেষ বিশ্বকাপ যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দরজা। অন্যদিকে, বর্তমান ইংল্যান্ড দল অতীতের ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে মাঠে নামতে চায় না। তাদের কাছে ম্যারাডোনার গোল বা বেকহ্যামের বিয়োগান্তক ঘটনা কেবল পুরনো আর্কাইভের ফুটেজ। এই নতুন ইংলিশ প্রজন্ম নিজেদের গল্প লিখতে এসেছে এবং তাদের লক্ষ্য কেবল পুরনো প্রতিশোধ নয়, বরং শিরোপার দিকে এগিয়ে যাওয়া।
ম্যাচটি শুরু হওয়ার আগে মাঠে কেবল বাইশজন খেলোয়াড় থাকবেন না, বরং থাকবেন রাত্তিন, ম্যারাডোনা, পিটার শিল্টন, মাইকেল ওয়েন কিংবা ডেভিড বেকহ্যামের মতো কিংবদন্তিরা। থাকবে ওয়েম্বলি থেকে সাপোরোর সমস্ত স্মৃতি। একদিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অদম্য আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে দশকের পর দশক ধরে ট্রফির প্রতীক্ষায় থাকা ইংল্যান্ডের নতুন স্বপ্ন। এই ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে একদিকে একজন কিংবদন্তির শেষ স্বপ্ন, অন্যদিকে এক নতুন প্রজন্মের আত্মপ্রকাশ সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক দ্বৈরথ। শেষ বাঁশির পর কে হাসবে আর কার চোখে থাকবে বিদায়ের অশ্রু, তা জানতে পুরো বিশ্বের ফুটবলপ্রেমী তাকিয়ে আছে আটলান্টার মাঠের দিকে। এই লড়াই কেবল জয়ের জন্য নয়, এই লড়াই অমরত্বের জন্য।
মন্তব্য করুন