বাংলাদেশ আর অন্য কোনো শক্তির খেলার দাবার বোর্ড হতে চায় না এবং দেশটি এখন নিজ শর্তেই বিশ্বমঞ্চে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে চলমান তিন দিনব্যাপী পঞ্চম ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর ‘নতুন করে লেখা এক বিশ্ব’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেশনে অংশ নিয়ে তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ এমন এক মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে যেখানে মাথা উঁচু করে বাকি বিশ্বের সঙ্গে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা বজায় রাখা সম্ভব, তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে জাতীয় ও জনগণের স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
সেশনে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে শামা ওবায়েদ জানান, উপসাগরীয় যুদ্ধের মতো জটিল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে অপ্রত্যাশিত জ্বালানি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুরক্ষা এই দুই বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যকরণে কাজ করছে। বিগত সরকারের আমলে অবহেলিত দেশের নিজস্ব গ্যাস ও এলএনজি অনুসন্ধান কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান নির্দেশনায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটিয়ে প্রতিটি নাগরিককে জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ায় দেশের অর্থনীতির ওপর যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, সে কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। মানবিক কারণে বাংলাদেশ সবসময় সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করলেও এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক বন্ধু ও অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সরকার বদ্ধপরিকর বলে নিজের বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
মন্তব্য করুন