প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে সাজ সাজ রব পুরো বন্দরনগরীতে। ঐতিহাসিক জে এম সেন হল চত্বরসহ যাতায়াত পথগুলোকে নান্দনিক রূপে সাজিয়েছে চসিক।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত জে এম সেন হল চত্বর এখন এক পরিপাটি, নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন স্থান। মাত্র কয়েক দিন আগেও যে প্রাঙ্গণ কিছুটা অবহেলিত ও বিবর্ণ ছিল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নিবিড় প্রচেষ্টায় তা রূপ নিয়েছে নতুন সাজে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে পুরো বন্দরনগরীজুড়ে এখন এক উৎসবমুখর আমেজ বিরাজ করছে। শহরটিকে আধুনিক, সবুজ ও পরিচ্ছন্ন রূপে সাজিয়ে সরকারপ্রধানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চসিক।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীকে বরণের সার্বিক প্রস্তুতি এবং জে এম সেন হল প্রাঙ্গণের সৌন্দর্যবর্ধন কাজ সরাসরি পরিদর্শন করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে চসিকের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমে জে এম সেন হলের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। প্রধানমন্ত্রী এখানে পদার্পণ করা মাত্রই যেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, গৌরবময় ইতিহাস এবং সংস্কৃতির এক অপরূপ ছোঁয়া দেখতে পান, সেভাবেই সমগ্র প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের বৈপ্লবিক ইতিহাসের কথা স্মরণ করে মেয়র বলেন, যাত্রা মোহন সেনগুপ্ত, যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত, বীর শিক্ষক মাস্টারদা সূর্য সেন এবং মহিমচন্দ্র দাসের মতো প্রাতঃস্মরণীয় বীর বিপ্লবীদের স্মৃতিচিহ্নগুলো দীর্ঘ দিন অযত্নে ছিল। তরুণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী এই ঐতিহাসিক বীরত্বের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতেই এসব পুরাকীর্তি ও স্মারক সংস্কার করে আধুনিক রূপ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ স্থান নয়, বরং তাঁর সম্ভাব্য যাতায়াত পথের প্রতিটি অংশ চকচকে ও সুবিন্যস্ত করা হয়েছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়ক থেকে শুরু করে ভিআইপি রোডজুড়ে চালানো হচ্ছে চসিকের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। সৌন্দর্য হানিকর অবৈধ সব ধরনের ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন দ্রুততম সময়ে অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নবনির্মিত সাইকেল ট্র্যাক, বোট ক্লাব রোড এবং নগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোর বর্ষা-পরবর্তী সংস্কার কাজ শেষ করে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিকের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে চসিক মেয়র জানান, বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকেরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। সবার অংশগ্রহণে এই আয়োজন এক ঐতিহাসিক মিলনমেলায় পরিণত হবে। এছাড়াও নগরবাসীর অবসরের প্রিয় স্থান জামালখান এলাকাটিকে আরও শৃঙ্খলিত, আধুনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে চসিক বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি জানান।
পরিদর্শনকালে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।