ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব দলগুলো রেকর্ড ১৭টি আসন পেয়ে ক্ষমতার ভারসাম্যে উঠে এলেও তাদের 'কিংমেকার' হওয়ার পথ রুদ্ধ। ইসরায়েলি রাজনীতির প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ ও ইহুদি দলগুলোর অনাগ্রহের কারণে রেকর্ড সাফল্যের পরও তারা সরকার গঠনে মূল ভূমিকা রাখতে পারছে না।
আল জাজিরার এক বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মঙ্গলবারের নির্বাচনে আরব রাজনৈতিক জোট 'জয়েন্ট লিস্ট' ও 'রা’আম' সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৭ থেকে ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্থান প্রমাণ করে যে ইসরায়েলি রাজনীতিতে পাঁচ ভাগের এক ভাগ ফিলিস্তিনি-আরব ভোটারদের আর উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট এবং গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল উভয় পক্ষই আদর্শগত অমিলের অজুহাতে প্রকাশ্যে আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্যালেস্টিনিয়ান ফোরাম ফর ইসরাইলি স্টাডিজের মহাপরিচালক হোনাইদা গানাম বলেন, “এই ভেটোর শিকড় ইসরায়েলের এমন এক বর্ণবাদী কাঠামোর মধ্যে নিহিত, যেখানে আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক ক্ষমতার সমান অংশীদার হিসেবে মানতে নারাজ ইহুদি নেতৃত্ব।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী নেতা আইজেনকোট যদি সত্যিই নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চান, তবে তাঁকে নাফতালি বেনেট বা আভিগদর লিবারম্যানের মতো উগ্র জায়োনিস্ট নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আরব দলগুলোর সমর্থন নিতে হবে,যা তাঁদের দীর্ঘদিনের আদর্শিক অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত।
যদিও রা’আম প্রধান মানসুর আব্বাস কিংবা জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবরিন ও আহমদ তিবি নেতানিয়াহুর চরমপন্থি সরকারকে হটাতে বিরোধী জোটকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন, কিন্তু ইহুদি রাজনৈতিক জোটগুলোর নীতিগত অনীহা ইসরায়েলি বর্ণবাদী গণতন্ত্রের নগ্ন রূপই প্রকাশ করছে। ফলে রেকর্ড আসন পেয়েও সরাসরি সরকার গঠনের অংশীদার হওয়া থেকে আরব দলগুলো শেষ পর্যন্ত বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছে।