যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক ও বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী রাইয়ান আবদুল বাতেনকে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে ফ্লোরিডায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ১৩টি মারাত্মক অভিযোগ আনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রাণীর সঙ্গে বিকৃত যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও ধারণ, বিতরণ এবং সংরক্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ওই শিক্ষকের নাম রাইয়ান আবদুল বাতেন (২৯)। তিনি দেশটির খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) বেলিনি কলেজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড কম্পিউটিংয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টির পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর (২০২৬) রাইয়ান আবদুল বাতেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযোগের বিবরণ ও আইনি অবস্থা: পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী, রাইয়ানের বিরুদ্ধে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ ও আদান-প্রদানের দায়ে ১৩টি পৃথক অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে প্রতিটি অভিযোগই 'থার্ড ডিগ্রি ফেলনি' (তৃতীয় মাত্রার গুরুতর অপরাধ) হিসেবে তালিকাভুক্ত।
গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ফ্লোরিডার ফ্যালকেনবার্গ রোড জেলে পাঠায় পুলিশ। বুকিং রেকর্ডে প্রতিটি অভিযোগের বিপরীতে ২ হাজার ৫০০ ডলার করে মোট সাড়ে ৩২ হাজার ডলার জামিনের অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এসব অভিযোগ এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
শিক্ষা ও কর্মজীবনের পটভূমি: রাইয়ান আবদুল বাতেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একজন সাবেক শিক্ষার্থী। বুয়েটের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তিনি ২০১৬ সালে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়ে ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার থেকে ২০১৮ সালে স্নাতকোত্তর এবং ২০২২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি প্রতিষ্ঠানটির ‘কম্পিউটেশনাল সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড এআই’ (সিএসএসএআই) ল্যাবের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় ছিলেন তিনি, যার ফলে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশি ও শিক্ষাঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।