নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় বাগেরহাট জজ কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রসেস সার্ভার মো. নজরুল ইসলাম শেখের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক।
দুদকের নির্দেশিত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিজের ও পরিবারের অর্জিত সম্পদের বিবরণী জমা না দেওয়ায় বাগেরহাট জজ কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রসেস সার্ভার মো. নজরুল ইসলাম শেখের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে দুদকের দুর্নীতিবিরোধী নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সম্প্রতি দুদকের বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আবুল কাইয়ুম হাওলাদার বাদী হয়ে অভিযুক্ত প্রাক্তন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলাটি রুজু করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে যে, বাগেরহাট জজ কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মো. নজরুল ইসলাম শেখের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্যতা পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ১ জানুয়ারি একটি সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারি করা হয়। উক্ত নোটিশে প্রাপ্তির তারিখ থেকে পরবর্তী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁর নিজের, তাঁর স্ত্রীর এবং অন্যান্য নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে-বেনামে থাকা যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং আয়ের বৈধ উৎসের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছিল।
আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত সাবেক কর্মচারী নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম হওয়ার পরও দুদক কার্যালয়ে কোনো ধরনের সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি। এমনকি নির্ধারিত সময় বৃদ্ধির জন্য যুক্তিসঙ্গত কোনো লিখিত আবেদনও দাখিল করেননি তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত আদেশের পর সম্পদ বিবরণী জমা না দেওয়া বা গোপন করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনগত এই ব্যর্থতা ও অপরাধের প্রেক্ষাপটে দুদকের বাগেরহাট জেলা কার্যালয় থেকে মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।