ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলা এবং ইরানের ওপর মার্কিন চাপের ফল এখন দৃশ্যমান এবং তেহরান বর্তমানে চরম চাপের মুখে পড়ে সমঝোতার পথ খুঁজছে।
একই বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির জন্য ওয়াশিংটন তেহরানকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে এবং সেই চাপের কারণেই তারা সমঝোতার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, শনিবার (৪ জুলাই) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় দিনব্যাপী শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে খামেনির মরদেহের অপেক্ষায় জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার শোকাহত জনতা। শোকের এই আবহ ছাপিয়ে সেখানে ‘প্রতিশোধ’ এবং ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ স্লোগানও শোনা গেছে। শোকাহত জনতার হাতে থাকা লাল পতাকাগুলো তাদের প্রতিশোধের সংকল্পেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যানুযায়ী, তেহরান থেকে শুরু করে এই শোকযাত্রা পরবর্তীতে ইরাকেও অনুষ্ঠিত হবে এবং শেষ পর্যন্ত খামেনিকে সমাহিত করা হবে। রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমঝোতার দাবি, অন্যদিকে শোকের আবহে তেহরানের উত্তপ্ত রাজপথ সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই নতুন মোড় এখন বিশ্ব রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মন্তব্য করুন