মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ আরও চরমে পৌঁছেছে। বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আটটি সামরিক স্থাপনায় সফলভাবে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সিরিক ও কেশমে অবস্থিত অবকাঠামোগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল যে, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে তারা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং নজরদারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন হামলার পর আইআরজিসির নৌবাহিনী এক কঠোর বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো আগামী দিনগুলোতে নরকযন্ত্রণা ভোগ করবে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সিরিক শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণকে বিন্দুমাত্র দুর্বল করতে পারেনি। আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে যে, হরমুজ প্রণালিতে অবৈধভাবে চলাচলকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে এবং এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো তাদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন