মধ্যপ্রাচ্যে মাসের পর মাস ধরে চলা সংঘাত বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে যাওয়ার মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, চাপ ও হুমকি থাকলে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা সফল হবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এবং কোনো ধরনের চাপমুক্ত পরিবেশে আলোচনা হলেই কেবল তা ফলপ্রসূ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
তুর্কমেনিস্তানে কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেনডেন্ট স্টেটসের (সিআইএস) শীর্ষ সম্মেলনে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠলে সংলাপের অর্থ ও সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে চাপ ও হুমকির পরিবেশে পরিচালিত আলোচনা প্রকৃত অর্থে আলোচনা নয়, বরং তা চাপিয়ে দেওয়া ও জোরজবরদস্তির শামিল।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সাত মাসের সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা গ্রীষ্মকাল থেকেই কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাতের অবসানের একটি কাঠামো নির্ধারণ করে একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হলেও পরে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি হামলার পর মার্কিন সামরিক অভিযান আবারও শুরু হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনাও বড় কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি। ফলে যুদ্ধ বন্ধে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শুধু দেশটির অর্থনীতিতে নয়, বরং আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনাতেও প্রভাব ফেলবে। এর আগে গত সোমবারও তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা অর্থহীন হয়ে পড়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন আলোচনার পরও নতুন করে হামলা হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যে পক্ষ নিয়মিত হত্যাকাণ্ড, নিষেধাজ্ঞা, চাপ ও হুমকির আশ্রয় নেয় এবং নিজেদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো ফল পাওয়া কঠিন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান কমিয়ে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। সেপ্টেম্বরের ১ তারিখের পর থেকে ইরানে আর কোনো হামলা চালানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্যই এই সামরিক সংঘাত প্রয়োজনীয় ছিল। তবে তেহরান দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্য থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।
বর্তমানে কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মূলত বন্ধ রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। দেশটির অনুমতি ছাড়া ওই নৌপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা বিভিন্ন জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে এবং অবরোধ লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠা কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।