৮০ বছর বয়সে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন রুটিন নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি বিস্ট’। গভীর রাত পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকা ট্রাম্প সকালে ঘুম থেকে ওঠেন দেরিতে। তার কর্মসূচিতে সকালের বড় একটি অংশ জুড়ে থাকে ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’।
রাতভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব থাকা এবং সকালবেলা জনসমক্ষে খুব কম উপস্থিতি—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৮০ বছর বয়সী এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের গত কয়েক মাসের কর্মসূচি বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি বিস্ট’। যেখানে তার দৈনন্দিন রুটিন ও ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের রাতজাগার অভ্যাস দীর্ঘদিনের। গভীর রাত পর্যন্ত নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ পোস্ট ও অন্যের পোস্ট শেয়ার করা তার নিয়মিত অভ্যাস। আর এর ফলস্বরূপ সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় দিনের প্রথমভাগে জনসমক্ষে তার দেখা মেলা ভার। উদাহরণস্বরূপ, জুনের পুরো সময়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে সকাল ১১টার আগে ট্রাম্পকে জনসমক্ষে দেখা গেছে মাত্র তিন দিন। বিদেশ সফর বা নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া মে ও এপ্রিল মাসেও একই চিত্র দেখা গেছে।
হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল কর্মসূচি পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুনের ৩০ দিনের মধ্যে ২৬ দিনই সকাল ৮টা থেকে ট্রাম্পের কর্মসূচিতে ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ উল্লেখ থাকত। এই সময়টিতে তিনি মূলত নিজের মতো সময় কাটান, তবে সহযোগীরা অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে সকালের দিকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন। অতীতে হোয়াইট হাউসের অন্দরমহল নিয়ে লেখা বই ‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এ লেখকরা উল্লেখ করেছিলেন যে ট্রাম্প ভোর ৪টা বা ৫টার দিকে ঘুমাতে যান।
দিনের প্রথমভাগে নির্ধারিত কর্মসূচিগুলোতেও প্রায়শই শিডিউল রক্ষা হয় না। সকাল ১০টার অনুষ্ঠান ১১টা বা তার পরেও গড়ানোর নজির রয়েছে। এমনকি হোয়াইট হাউস বা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মাঝেমধ্যে তার চোখ বুজে আসার বা ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনাও গণমাধ্যমে এসেছে।
এদিকে ট্রাম্পের এই রুটিন ও ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও হোয়াইট হাউস সরাসরি কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টের তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা ও কাজের শক্তির প্রশংসা করে জানানো হয়েছে যে, তার নেতৃত্ব ও কর্মতৎপরতা অত্যন্ত কার্যকর। তা সত্ত্বেও দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের এই রাতজাগা ও দেরিতে দিন শুরু করার অভ্যাস মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে