ভারতের পাঞ্জাব সংলগ্ন আন্তর্জাতিক সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই পাকিস্তানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক ও সীমান্ত উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, নিহত ওই তিন ব্যক্তি সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভি জানিয়েছে, ওই তিনজন নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক ছিলেন এবং তারা সীমান্ত পিলার থেকে মাত্র কয়েক ধাপ দূরে অবস্থান করছিলেন। তারা কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করার চেষ্টা করেননি দাবি করে পাকিস্তান একে দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
কাশ্মীর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা নিয়মিত হলেও তুলনামূলকভাবে শান্ত পাঞ্জাব সীমান্তে এমন প্রাণঘাতী ঘটনা বেশ বিরल। কাশ্মীর নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকলেও পাঞ্জাব সীমান্তে এই অনাকাঙ্ক্ষিত রক্তপাতের ঘটনায় ভারত সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। এই ঘটনার ফলে দুই দেশের মধ্যকার চলমান ভূরাজনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি ও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন