জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাংলাদেশ-বিরোধী বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য জি এম সিরাজ। সোমবার সংসদে তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ভারত ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ভারত সরকারের উচিত অবিলম্বে তাঁকে থামানোর উদ্যোগ নেওয়া।
জি এম সিরাজ তার বক্তব্যে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্মানজনক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং এটি কোনোভাবেই ছিন্ন করা সম্ভব নয়। তিনি ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট বিতর্ক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ বন্ধ করা এবং সীমান্তে মাদকের কারখানাগুলো ধ্বংস করার জোরালো দাবি জানান তিনি।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে জি এম সিরাজ সমুদ্রসীমা বিজয় এবং দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, সমুদ্রসীমা জয়ের পর দীর্ঘ সময় কোনো সম্পদ আহরণ করা সম্ভব হয়নি, তবে বর্তমান সরকার অফসোর বিডিংয়ের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আরও সুদৃঢ় হবে এবং সীমান্তে শান্তি বজায় থাকবে।
পরিশেষে, জি এম সিরাজ দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে একে অপরের প্রতি সম্মান ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ভারত-বিরোধিতা বা বাংলাদেশ-বিরোধিতার মতো কোনো নেতিবাচক প্রবণতা যেন দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর প্রভাব না ফেলে। তার এই বক্তব্য জাতীয় সংসদে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন