ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনার জেরে চট্টগ্রামে আয়োজিত ‘ফ্যাশন ভ্যানগার্ড ২০২৬’ অনুষ্ঠান থেকে বাদ পড়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। সাংবাদিকদের তোপের মুখে তাঁকে বাদ দিয়ে এখন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস কিংবা শবনম বুবলীকে চুক্তিবদ্ধ করার পরিকল্পনা করছেন আয়োজকরা।
আদালত প্রাঙ্গণে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সংবাদকর্মীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের জের ধরে এবার চট্টগ্রামের একটি বড় আয়োজন থেকে বাদ পড়লেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নগরীর খুলশী এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘ফ্যাশন ভ্যানগার্ড ২০২৬’ শীর্ষক ইভেন্ট থেকে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়োজক কমিটি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে আয়োজক কমিটির মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর ও পার্টনার খালেদ সুমন সংবাদমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরীমনির অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটার আগেই মূলত তাঁর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দেশের সর্বস্তরের গণমাধ্যমকর্মীদের তীব্র প্রতিবাদ ও বয়কটের ঘোষণার পর তাঁকে অতিথির তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নতুন পোস্টারও প্রকাশ করা হয়েছে এবং পরীমনিকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
পরীমনির জায়গায় অন্য কোনো তারকাকে দেখা যাবে কি না—এমন প্রশ্নে মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর জানান, ওই অনুষ্ঠানে একাধিক তারকা শিল্পী উপস্থিত থাকবেন। পরীমনির পরিবর্তে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস কিংবা শবনম বুবলীকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে, তবে এখনো বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়নি।
এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পরীমনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই ইভেন্টের পোস্টার শেয়ার করে ‘দেখা হচ্ছে প্রিয় চট্টগ্রাম’ ক্যাপশন দিয়েছিলেন। কিন্তু পোস্টটি প্রকাশের পরপরই চট্টগ্রামের সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একাধিক সাংবাদিক সংগঠন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পরীমনি যদি তাঁর আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চান, তবে চট্টগ্রামে তাঁর উপস্থিতি প্রতিহত ও অনুষ্ঠানটি বয়কট করা হবে। সাংবাদিকদের এই কঠোর অবস্থানের মুখেই আয়োজকরা নতি স্বীকার করে অতিথি পরিবর্তন করতে বাধ্য হন।
উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে জামিন শুনানি শেষে বের হওয়ার সময় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘ব্যাড টাচ’-এর অভিযোগ তোলেন পরীমনি। তবে অভিযুক্ত সাংবাদিকের পাল্টা অভিযোগ ছিল, পেশাগত কাজ করার সময় পরীমনি ও তাঁর দেহরক্ষীরা তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং ট্রাইপড ভেঙে দিয়ে হেনস্তা করেন। এই ঘটনার পর থেকেই সারা দেশের বিভিন্ন সংবাদকর্মী ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন পরীমনিকে পেশাগতভাবে বয়কটের সিদ্ধান্ত বজায় রেখেছে।