বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মানিকচক বাজার থেকে কুটুরবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৬৫০ মিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ৬৫ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটি কাজ শেষের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের বিটুমিন ও পাথর ব্যবহার এবং তড়িঘড়ি করে কার্পেটিং করার ফলে হাতের টান দিলেই সড়ক থেকে আস্তরণ উঠে আসছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে মেসার্স অঙ্কন এন্টারপ্রাইজ। তবে ঠিকাদার আল মোমিন কাজটি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম হেলালের কাছে হস্তান্তর করেন। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজের সময় ঠিকাদারের লোকজন দায়িত্বে থাকলেও গুণগত মানের তোয়াক্কা করা হয়নি। বৃষ্টির মধ্যে তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পর্যবেক্ষণ।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বগুড়া সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোবারক হোসেন জানিয়েছেন, কার্পেটিংয়ের পর টানা বৃষ্টিপাতের কারণে রাস্তাটি শুকানোর সুযোগ পায়নি এবং মাঠ পরিদর্শনে কাজের ত্রুটি পাওয়া গেছে। ঠিকাদারকে নিজ খরচে ত্রুটিপূর্ণ অংশ মেরামত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়রা দাবি করছেন, এটি কেবলমাত্র বৃষ্টির কারণে নয়, বরং উপকরণের মান ঠিক না থাকায় ঘটেছে।
বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল ওয়াজেদ জানিয়েছেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং এই অনিয়মে ঠিকাদার কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সংস্কার নয়, বরং পুরো কাজটি পুনরায় তদারকি করে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে অনিয়মের ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন