গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীকে পাশের ঘরে জোরপূর্বক আটকে রেখে ২০ বছর বয়সি এক নারী পোশাককর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে অবরুদ্ধ অবস্থায় দুদিন ঘরবন্দি থাকার পর স্বজনদের সহায়তায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শ্রীপুর থানায় উপস্থিত হয়ে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, শেরপুর জেলার বাসিন্দা ভুক্তভোগী ওই তরুণী তার স্বামীকে নিয়ে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের হানু মার্কেট এলাকায় হারুন নামের এক ব্যক্তির বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সম্প্রতি এলাকায় চুরির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় বাসা বদলের সিদ্ধান্ত নেন তারা। গত সোমবার বাসা পরিবর্তনের মালামাল সরানোর সময় স্থানীয় ফারুক ও নয়ন নামে দুই যুবক তার স্বামীকে জোর করে ডেকে নিয়ে যান। বেশ কিছুক্ষণ পর তার স্বামী বাসায় ফেরেন।
পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফারুক ও নয়ন আরও দুই অপরিচিত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ভুক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করেন। তারা স্বামীর কাছে টাকা পাওনার অজুহাত তুলে তাকে মারধর করে পাশের ঘরে আটকে রাখেন। এরপর কোনো কথা না শুনে ফারুক, নয়ন ও তাদের সহযোগীরা ভুক্তভোগী নারীর হাত-পা বেঁধে এবং গলায় ধারালো ছুরির ভয় দেখিয়ে পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ চালান। নির্যাতন চলাকালে ভুক্তভোগী বারবার কাকুতি-মিনতি করলেও বখাটেরা তা উপেক্ষা করে তাদের ওপর তাণ্ডব চালায়।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাসার আশপাশে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় ভয়ে দুদিন ধরে ওই দম্পতি ঘর ছেড়ে বের হতে পারেননি। পরবর্তীতে কৌশলে দূর সম্পর্কের স্বজনদের খবর দেওয়া হলে তারা এসে উদ্ধার করে ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামীকে থানায় নিয়ে যান। এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনার সত্যতা যাচাই ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের তদন্তকারী দলকে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন