ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমারস ফোরামের (সিএফ) বাজার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরে দেশে গড়ে নিত্যপণ্যের দাম ৪ দশমিক ৩১ বা ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বরের সঙ্গে তুলনা করলে দুই মাসে সামগ্রিক পণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় সাড়ে সাত শতাংশ। তবে শীতকালীন সবজি বাজারে আসায় শাকসবজির দাম কিছুটা কমেছে।
দেশের বাজারে গত অক্টোবর মাসে হু হু করে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। কনজুমারস ফোরামের (সিএফ) পক্ষ থেকে সংগৃহীত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বাজার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সিএফের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেকের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
সংগঠনটির সরেজমিন বাজারদর সমীক্ষা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যেখানে নিত্যপণ্যের দাম ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়েছিল, অক্টোবরে তা আরও ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সে হিসেবে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম মোট ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কোন পণ্যের দাম কত বেড়েছে: প্রতিবেদনটিতে খাতভিত্তিক পণ্যের দাম বাড়ার সুনির্দিষ্ট চিত্র তুলে ধরা হয়েছে—
মসলাজাতীয় পণ্য: লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি ও জিরার দাম সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ গড়ে ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
পেঁয়াজ, রসুন ও আদা: এই ক্যাটাগরিতে দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
জ্বালানি তেল: জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ০২ শতাংশ।
অন্যান্য নিত্যপণ্য: চিনির দাম ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ভোজ্যতেল ও ডালডার দাম ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ, আটা-ময়দার ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং চালের দাম গড়ে ২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া ডিমের দাম ১ দশমিক ৪২ শতাংশ, মাংসের দাম ০ দশমিক ০৩৮ শতাংশ এবং চা পাতার দাম ০ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, লবণ, দুগ্ধজাত পণ্য, টুথপেস্ট, বিস্কুট, খাতা-কলম এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্র্যান্ডের ওষুধের দাম অক্টোবর মাসে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল ছিল।
সবজির দাম কমলেও বিপাকে কৃষক: নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির খবর কেবল শীতকালীন শাকসবজির ক্ষেত্রে দেখা গেছে। অক্টোবর মাসে শাকসবজির দাম ৩ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সোনা-রুপার দাম ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে। যশোর, বগুড়া ও রংপুর অঞ্চলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের সবজি আগাম বাজারে আসায় দাম বেশ নিম্নমুখী। বগুড়া ও রংপুরে ফুলকপি-বাঁধাকপি ৬ থেকে ১২ টাকা, মূলা ৬ থেকে ৮ টাকা এবং লাউ ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হলেও রাজধানী ঢাকার বাজারে একই সবজি কয়েকগুণ বেশি দামে (ফুলকপি ৫০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা) বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় উৎপাদকরা অভিযোগ করেছেন, বাজারে দাম না থাকায় তাঁরা ফসলের উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না।
কনজুমারস ফোরামের সুপারিশ: দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে কনজুমারস ফোরাম। কেবল সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ালেই চলবে না, বরং শহর ও নগরে বাড়ি ও দোকানভাড়া, চিকিৎসা এবং শিক্ষা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। অতিমুনাফালোভী সিন্ডিকেট ও ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি গ্রামপর্যায়ের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর বাজার তদারকি এবং বাজার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মেরাদিয়া, আফতাবনগরের ভূঁইয়া বাজারসহ বিভিন্ন সুপারশপ থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে কনজুমারস ফোরাম (সিএফ)।