প্রায় ৬৭৮ কোটি টাকার অবৈধ স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান এবং মানিলন্ডারিং মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে সিআইডি।
চোরাচালানের মাধ্যমে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার অবৈধ সোনা ও ডায়মন্ড ক্রয়-বিক্রয় এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফুল হাসান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই রিমান্ড আবেদন জমা দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলামের আদালতে এ সংক্রান্ত রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে গুলশান অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয় ও শোরুমে বৈধ কাগজের আড়ালে অবৈধ এই চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল।
সিআইডির অনুসন্ধান ও নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই দীর্ঘ সময়ে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড বৈধ এলসির (ব্যাংক ঋণপত্র) মাধ্যমে বিদেশ থেকে মাত্র ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার মতো স্বর্ণালংকার ও ডায়মন্ড আমদানি করে। কিন্তু অনুসন্ধানে উন্মোচিত হয় যে, একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজারে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার বিশাল অঙ্কের সোনা ও ডায়মন্ড ক্রয় বা রূপান্তর করেছে। সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের বৈধ উৎস বা ক্রয়ের স্বপক্ষে কোনো সঠিক কাগজপত্র দেখাতে পারেনি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি নিশ্চিত হয়েছে যে, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ উপায়ে চোরাচালানের মাধ্যমে কেনাবেচা চালিয়ে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ উপার্জন করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় জামিন পেয়ে ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। নতুন করে অপরাধ তদন্ত বিভাগের মামলায় তাকে আবারও আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।