চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার নয়াহাটে অভিযান চালিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগে ৫ প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার।
চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার নয়াহাটে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এক বিশেষ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছে। বাজারে খাদ্যদ্রব্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি রোখার লক্ষ্যে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে এই অভিযান চালানো হয়। নিয়ম অমান্য ও ক্রেতাদের সাথে প্রতারণার দায়ে নয়াহাট এলাকার মোট পাঁচটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে সার্বিকভাবে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় দপ্তরের উপপরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে পরিচালিত এই তদারকিমূলক অভিযানে সমন্বয়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রানা দেবনাথ এবং মো. আনিছুর রহমান। অভিযান পরিচালনাকালে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘বনফুল’-এর স্থানীয় বিক্রয় কেন্দ্রকে অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা এবং দোকানের সামনে হালনাগাদ মূল্যতালিকা ঝুলিয়ে না রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ‘এআর ট্রেডার্স’কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সিলিন্ডার গ্যাসে একই ধরনের অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মারাত্মক অপরাধের প্রমানে ‘মেসার্স মনোয়ারা করপোরেশন’ এবং ‘অনন্যা ট্রেড সেন্টার’ নামের দুটি বড় প্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে নকল গোলাপজল তৈরি করা, খাদ্যে ব্যবহারের অনুপযোগী শিল্পকারখানার রং বিক্রি এবং অনুমোদনহীন ঘি বিক্রির অপরাধে ‘সুলতান পাইকারি বাজার’কে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি খাবারের স্বাদ ও আকর্ষণ বাড়াতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল রং মেশানো এবং অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে বিরিয়ানি সংরক্ষণের দায়ে ‘শাহী চট্টগ্রাম ওরস বিরিয়ানি’কে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভোজ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যের কারচুপি রোধে এমন তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে অধিদপ্তর।