ইরানের রাজনীতিতে কট্টরপন্থি আইনপ্রণেতা হামিদ রেজাইকে দায়িত্ব পালনকালে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় দেশটির রক্ষণশীল রাজনৈতিক শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম ইরানের কোনো সংসদ সদস্যকে কারারুদ্ধ করা হলো। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইরান ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি সংবাদপত্রের নিবন্ধের জেরে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়। ওই নিবন্ধে পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ ও প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেইর বিরুদ্ধে ‘সংসদীয় নথি কারসাজি’ করার গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
তেহরান থেকে ২০২৩ সালে নির্বাচিত কট্টরপন্থি এমপি হামিদ রেজাই সংসদে আসার আগে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ধর্মীয় নেতা হওয়ায় তার মামলাটি বিশেষ ধর্মীয় আদালতে বিচার করা হয় এবং অন্যের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের অভিযোগে তাকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে ইরানে নতুন করে বিতর্ক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার মধ্যেই এই ঘটনা ক্ষমতাসীন রক্ষণশীলদের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ইরান স্টাডিজবিষয়ক গবেষকদের মতে, কৌশলগত দিক নির্ধারণ ও ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে এই অন্তর্দ্বন্দ্ব এখন তেহরানের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে বাহ্যিক এই বিভাজন মোকাবিলা করতে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সবসময় জাতীয় ঐক্য ও প্রাতিষ্ঠানিক সংহতির বার্তা প্রচারের ওপর জোর দিচ্ছেন।
মন্তব্য করুন