ব্যালন ডি’অরে তৃতীয় হওয়ায় স্পেনের ভোটিং প্রক্রিয়া ও রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন লামিন ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই। স্প্যানিশ সাংবাদিকরা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় নিজের দেশের ফুটবল সংস্কৃতি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এবারের ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে স্পেনের হয়ে নজরকাড়া সাফল্য ও দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামালকে অন্যতম বড় ফেভারিট হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বল জেতা হয়নি ১৭ বছর বয়সি এই তারকার। ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের পেছনে পড়ে ব্যালন ডি’অর ভোটিংয়ে তৃতীয় স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাকে।
তরুণ এই ফরোয়ার্ডের এমন ফলাফলে কোনোভাবেই সন্তুষ্ট হতে পারছেন না তাঁর বাবা মুনির নাসরাউই। স্পেনের ভোটিং প্রক্রিয়া ও রিয়াল মাদ্রিদের সাদা জার্সির প্রতি বিশেষ পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
সাংবাদিকের ভোট নিয়ে প্রশ্ন ও ক্ষোভ: প্রখ্যাত সাংবাদিক জোতা জর্দির সঙ্গে এক আলাপচারিতায় এমবাপ্পেকে ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাসরাউই। ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের স্পেন প্রতিনিধি এবং স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর পরিচালক হোসে ফেলিক্স দিয়াজ নিজের মূল ভোটটি এমবাপ্পেকে দিয়েছিলেন। আর সামগ্রিক ভোটের ফলাফলেও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
দিয়াজের এই ভোটদান পদ্ধতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে ইয়ামালের বাবা বলেন, “এমবাপ্পেকে যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের মধ্য থেকে অন্তত একজনকে আমি পর্দায় দেখতে চাই এবং তার মুখোমুখি কথা বলতে চাই। আর বন্ধু, তুমি তো নিজেই এমবাপ্পের বড় ভক্ত!”
স্পেনের ফুটবল সংস্কৃতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: স্পেনের ভেতরের ভোট সংস্কৃতি এবং রিয়াল মাদ্রিদ প্রীতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুনির নাসরাউই আরও বলেন, “এমন অদ্ভুত ঘটনা শুধু স্পেনের মতো দেশেই ঘটা সম্ভব। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় যদি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলে, তবে যেন চোখ বন্ধ করে তাকেই জাতীয় দলের পক্ষ থেকে ভোট দেওয়া হয়! আমি বলছি না যে পুরস্কারটি কোনো দলীয় পারফরম্যান্সের ওপর দেওয়া উচিত, কিন্তু আমরা একবিংশ শতাব্দীতে বাস করছি, এখানে পক্ষপাতিত্বের দিন শেষ হওয়া দরকার।”
বিশ্বের অন্যান্য দেশের ভোটিং ট্রেন্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা তাদের দেশের তারকা লিওনেল মেসিকে ভোট দিয়েছে, ফ্রান্সের ভোট গেছে এমবাপ্পের বাক্সে, ইংল্যান্ডের প্রধান পছন্দ ছিলেন হ্যারি কেইন এবং জর্জিয়া ভোট দিয়েছে তাদের ঘরের ছেলে খিভিচা খাভারাস্খেলিয়াকে। অথচ নিজ দেশের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করা স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামালই স্পেনের মূল ভোটারদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি—এমন বিস্ফোরক অভিযোগই করেছেন তাঁর বাবা।
বাবার এই ক্ষোভ ও মন্তব্য বিশ্বজুড়ে ব্যালন ডি’অরের ভোটিং প্রক্রিয়া, জাতীয় পরিচয় এবং ক্লাব প্রীতির প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।