চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে আধুনিক ও লাভজনক স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ১৫ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার প্রস্তাবিত চুক্তি বাতিলের দাবিতে বন্দরের প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির’ উদ্যোগে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, এনসিটির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পাদিত হয়। দেশের পর্যাপ্ত জনবল, দেশীয় প্রযুক্তি ও শ্রমিকদের পূর্ণ সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লাভজনক এই টার্মিনালটি দীর্ঘমেয়াদে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে তা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। অবিলম্বে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার যাবতীয় প্রক্রিয়া ও খসড়া চুক্তি বাতিল করার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা ও সব ধরনের প্রশাসনিক হয়রানি অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়।
সরকার যদি এই আত্মঘাতী ইজারার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তবে আগামী দিনে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিক নেতারা। প্রয়োজনে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে ‘অলআউট ধর্মঘট’ বা পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা। শ্রমিকদের এই বিক্ষোভ ও অবস্থানের কারণে বন্দরের প্রধান সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্দর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, ডক শ্রমিক দল এবং বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠন এই কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এদিকে এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ৭ অক্টোবর বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে একটি মশাল মিছিলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন