সরকার গঠনের ৮ মাসের মাথায় ইশরাক হোসেনসহ ৩ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এক নারী এমপিকে পদত্যাগের নির্দেশ নির্দেশ প্রদান। জানুন সরকারের এই কড়া অবস্থানের মূল কারণ।
সরকার গঠনের মাত্র আট মাসের মাথায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। পাশাপাশি দলটির একজন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যকেও পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিতর্ক এড়াতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সরাসরি নির্দেশনা ও কঠোর বার্তার পর তারা এই পদে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন।
এই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার, যখন রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় অস্ত্র হাতে নিজেই একটি মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন তিনি। সেই অভিযানের সময় ইশরাক ও তাঁর সমর্থকদের হাতে উঁচানো আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়, যার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা ও অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রেক্ষাপটে রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালনে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা প্রদান করেন ইশরাক হোসেন।
ইশরাক হোসেনের এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্টভাবে জানান যে, আইনের চোখে সবাই সমান। কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে সরকার বা দল তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছেন।
ইশরাক হোসেনের পূর্বে একই পদে থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল আরও দুই মন্ত্রীকে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় গত ১ জুন পদত্যাগপত্র জমা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। যদিও কাগজে-কলমে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করেছিলেন, তবে পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন ও স্থানীয় দলীয় রাজনীতির টানাপোড়েনই তাঁর পদত্যাগের মূল কারণ ছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।
পরবর্তীতে ২২ আগস্ট তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে হয় জহির উদ্দিন স্বপনকে। ওইদিনই সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তথ্য মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন আন্দালিব রহমান পার্থ এবং জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়।
এর আগে মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে গত ১ অক্টোবর তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, যার পর জাতীয় সংসদ সচিবালয় তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।