দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
Dhaka Files
প্রকাশ : Oct 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব: টিকাদান কর্মসূচিতে সমন্বয়হীনতা ও সরকারের ভূমিকা

০ শেয়ার
বাংলাদেশে হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব: টিকাদান কর্মসূচিতে সমন্বয়হীনতা ও সরকারের ভূমিকা

২০২০ সালের পর এমআর টিকা ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকা এবং লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে চরম সমন্বয়হীনতার কারণে বাংলাদেশে দেখা দিয়েছে হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব। হাসপাতালেও বাড়ছে নতুন সংক্রমণ।

সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা যখন প্রায় কমে এসেছিল, ঠিক তখনই চলতি বছর এই রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এক নজিরবিহীন সংকটের জন্ম দিয়েছে।
  • জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২০ সালের পর দেশব্যাপী নিয়মিত এমআর (হাম-রুবেলা) টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়াই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মূল কারণ।
  • এর ফলে শিশুদের শরীরে প্রয়োজনীয় ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতার বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে দেশের কোমলমতি শিশুদের।

দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা যখন প্রায় কমে এসেছিল, ঠিক তখনই চলতি বছর এই রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এক নজিরবিহীন সংকটের জন্ম দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২০ সালের পর দেশব্যাপী নিয়মিত এমআর (হাম-রুবেলা) টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়াই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মূল কারণ। এর ফলে শিশুদের শরীরে প্রয়োজনীয় ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতার বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে দেশের কোমলমতি শিশুদের।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি চার বছর পর পর একযোগে শিশুদের এই টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নানা জটিলতার কারণে ২০২৪ সালের নির্ধারিত ক্যাম্পেইনটি হয়নি। পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এটি শুরুর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাদ দিয়ে নভেম্বরে শুধু টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর টিকাদান বন্ধ থাকায় গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে দেশে নতুন করে হামের তীব্র প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং মুহূর্তেই তা দেশের বিভিন্ন জেলায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ১০১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ২১ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, যদিও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে গত এপ্রিল মাসে সরকার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করলেও মাঠপর্যায়ের সঠিক পরিকল্পনা বা মাইক্রোপ্ল্যানিংয়ের অভাব প্রকট হয়ে ওঠে। একই জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত হাম-রুবেলা টিকা এবং ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রার মাঝে ৪৩ লাখ শিশুর বিশাল ফারাক দেখা যায়, যার ফলে কাভারেজ থাকা সত্ত্বেও অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনের চরম অভাব ও হাসপাতালগুলোর সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৬০ শতাংশই কোনো না কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে গিয়ে নতুন করে সংক্রমিত হয়েছে। একই রোগীর তথ্য বারবার সার্ভারে যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও বড় ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল টিকা প্রদান নয়, বরং গৃহস্থালি থেকে হাসপাতাল পর্যায় পর্যন্ত কঠোর আইসোলেশন এবং সঠিক ডাটা ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করা না গেলে এই মহামারি রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়ব।

ঢাকা ফাইলস ভেরিফাইড এডিটর

ঢাকা ফাইলসের প্রতিটি সংবাদ সম্পাদকীয় নীতি ও যাচাই প্রক্রিয়া মেনে প্রকাশ করা হয়। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
1

সদরঘাটে ট্রলারডুবি: নিখোঁজ দুজনকে জীবিত উদ্ধার

2

ক্রিমিয়ায় রুশ সামরিক বিমান বিধ্বস্ত: ২৯ আরোহীর সবার মৃত্যুর আশঙ্কা

3

ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়াতেন চীন-রাশিয়া-তুরস্ক: ট্রাম্পের দাবি

4

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

5

খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান স্থগিত: অভাবনীয় জনসমাগমের শঙ্কায় নতুন সিদ্ধান্ত

6

স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ দেশের সব প্রতিষ্ঠান এখন বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে

7

এআই কবজায় নিতে বললেন ইসরাইলি গবেষক মায়া অ্যাকারম্যান

8

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভারতের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি, বোলিং শক্তি বাড়াতে মরিয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ

9

কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা ও রাডার ক্ষতিগ্রস্ত: ইরান যুদ্ধে যোগ দিল হুথি

10

মুগ্ধসহ ১১ হত্যা: অভিযোগ গঠনের আদেশ ২৩ সেপ্টেম্বর