আমদানি নিষিদ্ধ মেমোরি কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে খালাস ও আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা কাস্টম হাউজের সাবেক দুই রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষিত বিপুল পরিমাণ মেমোরি কার্ড শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস ও আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা কাস্টম হাউজের সাবেক দুই রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুদকের জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ওই চার্জশিট চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন:
আ. রউফ সরকার (সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা, ঢাকা কাস্টম হাউজ)
মো. হারুন-অর-রশীদ (সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা, ঢাকা কাস্টম হাউজ)
মামুন হাওলাদার (আমদানিকারক ও যাত্রী)
মামলার পটভূমি ও অব্যাহতি: এর আগে ২০২৩ সালের ১৯ জুন দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থাটির উপ-পরিচালক সুভাষ চন্দ্র দত্ত বাদী হয়ে মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান মামলাটি তদন্ত করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় চারজনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়।
অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন— আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রক দপ্তরের নিয়ন্ত্রক মো. আওলাদ হোসেন, সহকারী নিয়ন্ত্রক মো. মামুন ইফতেখার রহমান, সহকারী নিয়ন্ত্রক মোছা. ফাতেমা খাতুন এবং উপ-নিয়ন্ত্রক মনিরুজ্জামান খান।
দুদকের তদন্তে যা মিলেছে: দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসাধু উপায়ে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে আমদানিকারক ও যাত্রী মামুন হাওলাদারের আনা ২ লাখ ১০ হাজার পিস নিষিদ্ধ মেমোরি কার্ডের ইনভয়েস গোপন করেন। কাস্টমস কর্মকর্তারা ব্যাগেজ গণনা না করেই স্বল্প সময়ে তা খালাসযোগ্য হিসেবে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ক্লিয়ারেন্স পারমিটের মাধ্যমে আটক করা মেমোরি কার্ডের একটি বড় অংশ বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করা হয়। তদন্তে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে শাস্তিযোগ্য অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।