ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ কার্যত বাতিল ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পথ তিনি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। তার মতে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানের নেতৃত্বকে অভিযুক্ত করে বলেন যে, তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তা ব্যবহার করতে তারা দ্বিধা করত না। যদিও ট্রাম্প জানিয়েছেন যে মার্কিন প্রতিনিধিরা চাইলে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন, তবে তিনি নিজেও এর সফলতার বিষয়ে চূড়ান্ত সন্দিহান।
এই ঘোষণার পাশাপাশি ট্রাম্পের আরও একটি বক্তব্য কূটনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ন্যাটো সম্মেলনের এক বক্তৃতায় তিনি স্পেনকে ন্যাটোর একটি ‘ভয়াবহ অংশীদার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে ভয়াবহভাবে। গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দায়ভার ইরানের ওপর চাপিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বন্দর আব্বাস, সিরিক এবং কেশম দ্বীপে আগের চেয়ে কয়েক গুণ শক্তিশালী সামরিক হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানও বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে।
হামলার এই ঘটনায় ইরানি নেতৃত্বের ক্ষোভ চরমে। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে দেওয়া বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বলেছেন যে, ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে নতি স্বীকার করানো সম্ভব নয়। ইরানের সামরিক বাহিনীও এই হামলাকে ‘প্রকাশ্য আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে ‘বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া’ দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। হামলার সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজার অনুষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল সময়ে এমন সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আনোয়ার গারগাশের মতে, বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের পাল্টা হামলা প্রমাণ করে যে তেহরান উত্তেজনা কমানোর ব্যাপারে মোটেও আগ্রহী নয়। বন্দর মাহশাহর ও বুশেহরসহ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্য নিহতের খবর পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার এই ঘটনা কেবল দুই দেশের সম্পর্ককেই বিচ্ছিন্ন করেনি, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এক ভয়াবহ যুদ্ধের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
মন্তব্য করুন