দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে কো-পাইলট কর্তৃক প্রধান পাইলটের ওপর হামলার ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক তথ্য সামনে আসছে। ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে অবস্থানরত ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। টাইমস অব ইসরাইল ও সিবিএস নিউজসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ককপিটের ভেতরের সেই ভয়ংকর মুহূর্ত এবং জীবন বাঁচাতে পাইলটের লড়াইয়ের বিবরণ উঠে এসেছে।
গত বুধবার সংঘটিত ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর ফ্লাইটের ওই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার জানান, হামলার ঠিক কয়েকমিন্ট আগে কো-পাইলট হামামি তাকে নামাজ পড়ার কথা বলে অনুমতি নেন। এর মাত্র চার-পাঁচ মিনিট পরই ক্যাপ্টেনের মাথার পেছনে হঠাৎ প্রচণ্ড একটি আঘাত আসে। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন হয়তো বিমানে বড় ধরনের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা বিস্ফোরণ ঘটেছে। কিন্তু পরপর আরও বেশ কয়েকটি আঘাত আসার পর তিনি বুঝতে পারেন যে কো-পাইলট হামামি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেল নিশ্চিত করেছেন যে হামামি ককপিটে থাকা জরুরি প্রয়োজনের উদ্ধারকারী কুঠার বা এক্স দিয়ে ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালান এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাਤੇ জানা যায়, লাগাতার আঘাতে ক্যাপ্টেনের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ঝাপসা হয়ে আসে এবং এর মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। প্রথম দফায় ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করলেও হামামি তাকে বাধা দেন। রক্তাক্ত অবস্থায় ককপিটের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় বাইরে যাত্রীদের চিৎকার শুনতে পেয়ে ক্যাপ্টেন মাচ্ছার বুঝতে পারেন যে বেঁচে থাকতে হলে তাকে নিজেই শেষ চেষ্টা করতে হবে। চরম অদম্য সাহসিকতা দেখিয়ে তিনি শেষ শক্তি দিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যান এবং সেটি খুলতে সক্ষম হন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কয়েকজন সাহসী যাত্রী ভেতরে ঢুকে হামামিকে জাপটে ধরেন।
যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন জানিয়েছেন, ককপিটে ঢুকে তিনি দেখতে পান হামলাকারী হামামি বিমানের নিয়ন্ত্রণযন্ত্র বা কন্ট্রোলের ওপর ঝুঁকে আছেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে হামামির গলা ধরে তাকে সরিয়ে দেন এবং অন্য যাত্রীরা তাকে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন। হামামিকে সরিয়ে দেওয়ার পর দেখা যায় বিমানটি তখন সরাসরি মাটির দিকে দ্রুত গতিতে নেমে যাচ্ছে। এমন সংকটময় মুহূর্তে বিমানে থাকা এক অফ-ডিউটি পাইলট দ্রুত এগিয়ে এসে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বড় ধরনের এক মারাত্মক দুর্ঘটনা থেকে ফ্লাইটটিকে রক্ষা করেন।
এদিকে এই হামলার পর কো-পাইলট হামামির অতীত কর্মকাণ্ড ও ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, অতীতে উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাজনক তথ্যের কারণে ওমানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ারে তাকে ফ্লাইট পরিচালনা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে সেই তথ্য ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল না। বিদেশি এয়ারলাইনসের মাধ্যমে তেলআভিভে যাতায়াতকারী পাইলটদের নিরাপত্তা ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করার বিষয়টি নিয়ে ইসরাইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন