দ্রুতগতির পারফরম্যান্স এবং শারীরিক আঘাতে তুলনামূলক বেশি সহনশীলতার কারণে বর্তমান কম্পিউটার স্টোরেজে সলিড স্টেট ড্রাইভ বা এসএসডি (SSD)-এর ব্যবহার ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে এসএসডি চিরস্থায়ী নয়; এর ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরির প্রতিটি সেলে নির্দিষ্ট সংখ্যকবার ডেটা লেখা ও মুছে ফেলা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসএসডির সক্ষমতা কমে গিয়ে একপর্যায়ে ত্রুটি বা বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে কিছু সহজ ও কার্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে পুরোনো এসএসডির ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানো এবং এর কার্যকর আয়ুষ্কাল অনেকটাই বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব। হার্ডডিস্কের মতো এসএসডিতে কোনো চলমান যান্ত্রিক অংশ না থাকায় ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরিতে ইলেকট্রনিকভাবে ডেটা লেখা ও মুছে ফেলা হয়। এসএসডির স্থায়িত্ব বা ধৈর্য (Endurance) বোঝাতে নির্মাতারা সাধারণত TBW বা Terabytes Written পরিমাপটি ব্যবহার করে থাকেন। অর্থাৎ, একটি এসএসডি তার পুরো জীবনদশায় মোট কত পরিমাণ ডেটা লেখার জন্য তৈরি, TBW হলো তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। তবে এই TBW সীমায় পৌঁছানো মানেই এসএসডি সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট হয়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয়; এটি মূলত নির্মাতার নির্ধারিত একটি নিরাপদ সীমা মাত্র। পুরোনো এসএসডির কার্যক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে বিশেষজ্ঞরা কিছু সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন:
অপ্রয়োজনীয় বড় ডেটা লেখা কমান: বারবার বড় ফাইল ডাউনলোড করে মুছে ফেলা, বিপুল পরিমাণ ডেটা স্থানান্তর করা কিংবা ঘন ঘন ডেটা পরিবর্তন ও লেখার কাজ এসএসডির ওপর অতিরিক্ত 'রাইট ওয়ার্কলোড' তৈরি করে। তাই পুরোনো এসএসডিতে বড় ভিডিও, ব্যাকআপ বা দীর্ঘকাল সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই এমন ফাইলগুলো অন্য কোনো স্টোরেজে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
এসএসডি অতিরিক্ত গরম হতে দেবেন না: ভারী ফাইল ট্রান্সফার, গেমিং বা ভিডিও এডিটিংয়ের সময় এসএসডির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে নির্মাতার নির্ধারিত তাপমাত্রার সীমার বাইরে ড্রাইভটি পরিচালিত হলে এর স্থায়িত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই কম্পিউটারের ভেতরে পর্যাপ্ত এয়ারফ্লো নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এসএসডির ভালো কুলিং ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এসএসডি পুরোপুরি ভর্তি করবেন না: এসএসডিতে 'নিয়ার লেভেলিংসহ' বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে লেখার কাজ মেমোরি সেলের মধ্যে সুষমভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ড্রাইভটিতে পর্যাপ্ত খালি জায়গা থাকলে এসএসডির কন্ট্রোলার এই ব্যবস্থাপনা আরও নিখুঁতভাবে করতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে ফেলা এবং বড় ফাইলগুলো অন্য ড্রাইভে সরিয়ে রাখা ড্রাইভের আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে।
নিয়মিত এসএসডি-এর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন: পুরোনো এসএসডির বর্তমান অবস্থা ও স্বাস্থ্য জানতে নিয়মিত S.M.A.R.T. (Self-Monitoring, Analysis and Reporting Technology) তথ্য পরীক্ষা করা উচিত। বিভিন্ন এসএসডি নির্মাতার নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে ড্রাইভের হেলথ, তাপমাত্রা এবং মোট কত ডেটা লেখা হয়েছে, সেই তথ্যগুলো সহজেই যাচাই করা সম্ভব।
গুরুত্বপূর্ণ ডেটার একাধিক কপি রাখুন: এসএসডি যতই আধুনিক ও উন্নত হোক না কেন, এটিকে কখনোই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের একমাত্র বা একক কপি হিসেবে রাখা নিরাপদ নয়। কারণ হার্ডওয়্যার বা যেকোনো ইলেকট্রনিক সমস্যার কারণে TBW সীমায় পৌঁছানোর আগেই এসএসডি হঠাৎ নষ্ট হতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ ছবি, নথি ও কাজের ফাইলের আরেকটি কপি বাহ্যিক হার্ডড্রাইভ কিংবা নির্ভরযোগ্য ক্লাউড স্টোরেজে ব্যাকআপ হিসেবে রাখা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সহজ সতর্কতাগুলো মেনে চললে পুরোনো এসএসডির অপ্রয়োজনীয় রাইট অপারেশন ও তাপজনিত ঝুঁকি কমে যায় এবং এর কার্যকর আয়ু অনেকটাই দীর্ঘ হয়।
মন্তব্য করুন