রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বসুন্ধরা শাখার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইবতিশাম রাফিফ ইসলাম আরিশার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের বুলিং, কোচিং বাণিজ্য এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা করতে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেইলি রোডের মূল ক্যাম্পাসে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কতিপয় অভিভাবক।
সাক্ষাৎ শেষে বেলা তিনটার দিকে ক্যাম্পাসের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের ক্ষোভ, অভিযোগ ও দাবির কথা তুলে ধরেন অভিভাবকরা। প্রতিবাদী অভিভাবকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এম এ এম ইফতেখার মোমিন, আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, মো. গোলাম কিবরিয়া ও আল আসমাউল হুসনা। তাদের মূল দাবি ছিল, শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের আচরণ ও বুলিংয়ের সংস্কৃতি বন্ধ করা এবং আরিশার মৃত্যুর পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ বা কোনো শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা।
অভিভাবক এম এ এম ইফতেখার মোমিন গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১২ আগস্ট বসুন্ধরা শাখায় মর্মান্তিকভাবে একটি বাচ্চার মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শোকবার্তা দেওয়া হয়নি বা এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়নি। একটি শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যে দায়িত্বশীল আচরণ ও দায়বদ্ধতা থাকা উচিত ছিল, তার ব্যত্যয় ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বুলিং এবং কোচিং বাণিজ্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি জানান, কোচিংয়ে না পড়লে শিক্ষকদের বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের, যা বুলিংয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অবিলম্বে এই অবৈধ কোচিং বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি হেড গার্ল নির্বাচন প্রক্রিয়া ও তদবির বাণিজ্য নিয়েও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলেন অভিভাবকরা।
অভিভাবকদের দাবি অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে তাদের প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় এবং পরবর্তীতে অধ্যক্ষ তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার ও সঠিক বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম মুঠোফোনে সংবাদমাধ্যমকে জানান, অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীর মৃত্যু বা বুলিংয়ের মতো কোনো ইস্যু নিয়ে তার কথা হয়নি। তারা অভিভাবক হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই দেখা করতে এসেছিলেন। বসুন্ধরার শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ওই মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল না এবং এবিষয়ে ইতোমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন