কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনা বৃদ্ধি, সরকারি ঋণ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আগামী দুই বছরে স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড গড়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ববাজারে আগামী দুই বছরের মধ্যে স্বর্ণের দাম অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে জোরালো পূর্বাভাস দিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী ও স্বর্ণশিল্পের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক স্বর্ণ ক্রয়ের প্রবণতা, সরকারি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন ডলারের আধিপত্য নিয়ে ক্রমবর্ধমান সংশয় মূল্যবান এই ধাতুর চাহিদা বিশ্বজুড়ে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আবারও বাড়াতে পারে,এমন শঙ্কার কারণে সম্প্রতি স্বর্ণের দামে কিছুটা পতন দেখা গেছে এবং বিশ্ববাজারে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম কমে ৪ হাজার ৭৫ ডলারে নেমে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সোনার দাম রেকর্ড গড়ে প্রতি ট্রয় আউন্স ৫ হাজার ৫০০ ডলার অতিক্রম করেছিল। তবে তহবিল ব্যবস্থাপক ও বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান এই দরপতন সাময়িক এবং অর্থনৈতিক ও আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা পুনরায় নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যা দামের নতুন উল্লম্ফনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয়ের পরিমাণ ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ মাসিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ওই একক মাসেই বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রায় ৬৩ টন স্বর্ণ কিনে নিজেদের মজুত সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো মার্কিন ডলারের ওপর একক নির্ভরতা কমাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনছে এবং চীনসহ অন্যান্য দেশ তাদের মজুত ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে চলেছে। এর মধ্যে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের মজুত ইতোমধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪১০ টনে দাঁড়িয়েছে, যা তাদের মোট রিজার্ভের প্রায় ৯ শতাংশ।
ট্রয় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের তহবিল ব্যবস্থাপক শার্লট ইয়ং এবং এওন ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা পল কার্নসহ শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে স্বর্ণের বাজার নতুন ইতিহাস গড়তে পারে। মার্কিন ক্রমবর্ধমান ঋণের ঝুঁকি, বিভিন্ন মুদ্রার ওপর মানুষের আস্থার সংকট এবং মুদ্রার সরবরাহ ইচ্ছামতো না বাড়ানোর সুবিধার কারণে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ দিন দিন অটুট থাকছে। অর্থনৈতিক মন্দা কিংবা বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় পারিবারিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বা ফ্যামিলি অফিসগুলোও সরকারি বন্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে স্বর্ণের মজুত বাড়াতে শুরু করেছে। ফলে আগামী দিনে স্বর্ণের দাম আবারও রেকর্ড গড়ার পথেই এগোচ্ছে।