জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ন্যাশনাল ক্যান্সার কনফারেন্সে হাসপাতালের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসার মান উন্নয়নে গুরুত্ব দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রোগীদের গুণগত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত দুরুহ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং স্বাস্থ্য খাতের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখছেন, যাতে চিকিৎসার অভাবে কোনো দরিদ্র মানুষকে অকালে প্রাণ হারাতে না হয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ক্যান্সার কনফারেন্স’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। জাতীয় পর্যায়ের এই সম্মেলনে দেশের ক্যান্সার চিকিৎসার নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকেরা। উপস্থিত বক্তাদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো দ্রুত নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হাসপাতালের সামগ্রিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণের মারাত্মক ঘাটতি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ড, মেঝে এবং বিশেষ করে শৌচাগারগুলোতে প্রায়শই অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ চোখে পড়ে। সংক্রামক ব্যাধি ও সাধারণ রোগীদের জন্য এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারি হাসপাতালগুলোর শৌচাগার ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার যাবতীয় সমস্যা অনতিবিলম্বে সমাধানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকারি অর্থ মূলত জনগণের রক্তঘামে অর্জিত অর্থ। এই অর্থের সঠিক ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের প্রতিটি অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল হতে হবে। বিশেষ করে ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য কেবল দামি যন্ত্রপাতি কিনলেই হবে না, বরং সেগুলো সফলভাবে পরিচালনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সময়োপযোগী ও দক্ষ জনবল তৈরি করা জরুরি। এ খাতের বর্তমান সংকটগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও চাহিদাপত্র দ্রুত প্রণয়নের নির্দেশও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় পৌনে দুই লাখ মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। এর প্রধান কারণ হলো ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৭০ শতাংশ অত্যন্ত শেষ বা জটিল পর্যায়ে গিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন, যার ফলে তাঁদের জীবনঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে থাকা এনসিডি কর্নারগুলোকে কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার স্ক্রিনিং ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার চিকিৎসা সামগ্রী কেনাকাটার ক্ষেত্রে আগাম জনবল ও কারিগরি সক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রেডিওথেরাপির মতো সংবেদনশীল চিকিৎসায় ‘মেডিকেল ফিজিসিস্ট’-এর ভূমিকা অপরিসীম এবং তাঁদের অনুপস্থিতিতে রেডিয়েশনের ডোজ নির্ধারণ করা রোগীর জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই যেকোনো ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কেনার চুক্তিতে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের শর্ত স্পষ্ট রাখার পরামর্শ দেন তিনি।